পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য সোরহাব উদ্দিন স্বপনের নেতৃত্বে হামলায় আহত হয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে কর্মরত সমকাল প্রতিনিধিসহ চার সাংবাদিক। ওই ঘটনায় ত্রিশাল থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ওই বিএনপি নেতাসহ দুইজনকে আটক করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ত্রিশাল প্রেসক্লাব, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের ত্রিশাল প্রতিনিধি মতিউর রহমান সেলিম, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য এস এম মাসুদ রানা (সকালের সময়), আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ (কালবেলা) ও রাকিবুল হাসান সুমন (নয়া শতাব্দী)।
সাংবাদিকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যান তারা। ঘটনাস্থলে পৌছার কিছুক্ষণ পর কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ছাইফুল ইসলাম স্বপনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাদের ওপর। এসময় হামলাকারীরা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে থাকা মোবাইল, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। কেড়ে নেওয়া হয় মোটরসাইকেলের চাবি।
এরপর স্বপন মেম্বারের নির্দেশে ও নেতৃত্বে হাবিবুর রহমান জিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ সমকালের সাংবাদিক মতিউর রহমান সেলিম ও সকালের সময় প্রতিনিধি এস এম মাসুদ রানার ওপর হামলা করে। এসময় তাদেরকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আটকে রাখে। সেখানকার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন এসে তাদেরকে রক্ষা করে। তাদেরকে উদ্ধার করতে গেলে কালবেলার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ ও নয়া শতাব্দীর সাংবাদিক রাকিবুল হাসান সুমনকেও মারধর করে।
খবর পেয়ে ত্রিশাল প্রেস ক্লাবের অন্য সহকর্মীরা ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে আহত মতিউর রহমান সেলিম ও এস এম মাসুদ রানাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
ত্রিশাল থানা অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
