বাড়ি থাকতেও প্রাণভয়ে হোটেলে রাত কাটান ব্যবসায়ী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫৯ পিএম

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মো. গিয়াস উদ্দীন নামে এক ব্যবসায়ী কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চারতলা ভবন নির্মাণ করেও সেখানে থাকতে পারছেন না। পারিবারিক বিরোধ, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি প্রতিদিন রাতে শহরের একটি হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মহেশপুর (পালপাড়া) গ্রামের মৃত. সৈয়দ আহমেদের বড় ছেলে গিয়াস উদ্দীন নিজের উপার্জনে খরিদকৃত ৯ শতক ও আংশিক পৈতৃক জমির অংশসহ মোট ৩৩ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ১৬ শতক জমির উপর চার তলার ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু জমির মালিকানা তার নামে নিশ্চিত থাকলেও একই দাগে ২৪ শতকের মধ্যে ১২ শতক জায়গার পরির্বতে সাড়ে ১৬ শতক জায়গা তার ছোট ভাই মামুনুর রশিদ দখর করেন। যা সাড়ে ৪ শতক জায়গা বড় ভাই গিয়াস উদ্দীনকে কম দেন।

cumilla house news pic-1

গিয়াস উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, তার দুই মেয়ের পূর্বা-অর্পার ইচ্ছায় ভবনের নিচতলায় তাদের দাদা-দাদির নামে সৈয়দ-সুফিয়া হেফজখানা করার জন্য অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ কারণে ছোট ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের উসকানিতে চাচাতো ভাই মফিজ, ফারুক, আজাদ, আবুল খায়ের এবং জসীম কাজ বন্ধ করে দেন।

গিয়াস উদ্দীন বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে চাচাতো ভাইয়েরা মিলিত হয়ে আমার কাছে ২৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গোমতী নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। ফলে আমি ও আমার পরিবার কেউই বর্তমানে বাড়িটিতে যেতে সাহস পারছিন না। এ বিষয়ে হুমকি ধমকির একটা মামলা ১০৭/১১৭ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ভবনের একটি অংশ বিক্রি করতে এবং অন্যত্র জমির আংশিক বিক্রি করতে গেলে প্রতিপক্ষ দলের লোকেরা উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে শিরোনামে একটি সাইনবোর্ড টাঙান। তবে ওই রিট পিটিশন (মামলা নং ৪২৩/২০২৫) জমির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তিনি পরিবারসহ ঢাকায় থাকছেন এবং গ্রামে একা আসলেও রাতে হোটেলে থাকার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নামাজে থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলেন। এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

আরেক অভিযুক্ত চাচাতো ভাই ফারুক বলেন, গত দুই বছর ধরে গিয়াস উদ্দীনের সঙ্গে আমার কোন দেখা নেই। উল্টো তিনি হয়রানির উদ্দ্যেশে আমাদের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে। আদালতে একটি মামলাও প্রমাণিত করতে পারেনি। এ জায়গার মালিক  তারা দুই ভাই। গিয়াস উদ্দীন হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে রাস্তার অংশ নিয়ে তার দুই মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। আর তিনি যে বাড়ি করেছেন সেখানে থাকার কোন পরিবেশ নেই। তাই তিনি শহরে থাকেন। চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। তিনি যদি ভালো হতেন মাদ্রাসা উদ্বোধেনর দিন কেন এলাকার মানুষ আসল না।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, দুই ভাইয়ের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। একই জায়গা দুজনে দাবি করছে। জায়গা-সম্পত্তি ঝামেলা আদালতের বিষয়। থানার কিছু করার নাই। আদালত যেই রায় দিবে সেই জায়গার মালিক হবেন।

জানা যায়, গিয়াস উদ্দীন তার নির্মাণ কাজের বাঁধা এবং চাঁদা দাবির জন্য অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেটের আদালতের মামলা নং- ২০১৯  ধারা-৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮০, ৩৮৫, ৫০৬(২)/৩৪ বাদি হয়ে মামলা রুজু করেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত