ক্যানসার শনাক্তকরণের একটি পদ্ধতি বা ধাপ হলো বায়োপসি। এই পদ্ধতিতে শরীরের টিস্যুর অল্প একটু নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা হয়। ত্বক বা শরীরে অন্য কোনো অঙ্গ থেকে টিস্যুর নমুনা নিয়ে বায়োপসি করা হয়। বায়োপসি মূলত নমুনা নেওয়া বা টিস্যু নমুনা উভয়কেই বোঝায়।
কখন বায়োপসির প্রয়োজন
দুই ক্ষেত্রে বায়োপসির প্রয়োজন হয় একটা হলো ফাংশনাল অর্থাৎ কিডনি বা লিভারের সমস্যা হলে। দ্বিতীয় হলো শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ ফুলে গেলে। যখন টিস্যুর নমুনা মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়, তখন অস্বাভাবিক কোষগুলো সহজেই শনাক্ত করা যায়। যার ফলে সুনির্দিষ্টভাবে রোগ নির্ণয় সহজ হয়। যখন বোঝা যায় রোগটি কোন পর্যায়ে আছে তখন বায়োপসির তীব্রতা এবং গ্রেড মূল্যায়ন করা যায়। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এবং একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসার প্রতি কতটা ভালোভাবে সাড়া দেয় জানা যায়। বায়োপসি একজন ব্যক্তির সামগ্রিক অবস্থা নির্ধারণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে বায়োপসি দরকার হয়। তাহলো ক্যানসার শরীরের প্রদাহ, যেমন লিভার (হেপাটাইটিস) বা কিডনি (নেফ্রাইটিস) যে কোনো ধরনের সংক্রমণ, যেমন লিম্ফ নোড ,যক্ষ্মা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ইত্যাদি। শুধুমাত্র ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ত্বকে বা শরীরের অভ্যন্তরে পি-বা ক্যানসারযুক্ত (ম্যালিগন্যান্ট) বা নন-ক্যানসার কি না তা সাধারণত বলা সম্ভব নয়। যে কারণে প্রায়শই বায়োপসি প্রয়োজন হয়।
বায়োপসির প্রকারভেদ
বিভিন্ন ধরনের বায়োপসি রয়েছে যা শরীরের বিস্তৃত অবস্থা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। পাঞ্চ বায়োপসি একটি বিশেষ যন্ত্র ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে ত্বকের নমুনা শনাক্ত করে রোগ নির্ণয় করা হয়। সুই বায়োপসি বিশেষ ফাঁপা সুই, এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই স্ক্যান দ্বারা যে কোনো অঙ্গ বা ত্বকের নিচের টিস্যুতে প্রবেশ করিয়ে অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এন্ডোস্কোপিক বায়োপসি এন্ডোস্কোপ টিস্যু অপসারণের জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন গ্যাস্ট্রোস্কোপির সময় পেট থেকে নমুনা নিয়ে তার বায়োপসি করে বোঝা হয় পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে আছে। এক্সিশন বায়োপসি টিস্যুর একটি বড় অংশ অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। পেরিওপারেটিভ বায়োপসি অস্ত্রোপচারের সময় পেরিওপারেটিভ বায়োপসি করা হয়।
কীভাবে করবেন
বেশিরভাগ বায়োপসিতে শুধুমাত্র লোকাল অ্যানেস্থেসিয়ার প্রয়োজন হয়। এর জন্য সারা রাত হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে বায়োপসি করা হয় তখন রাতে হাসপাতালে থাকার দরকার হয়। অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করে বায়োপসি করলে বেশিরভাগ বায়োপসি ব্যথাহীন হয়। তবে নমুনাটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে। কোনো কোনো বায়োপসির পর হালকা ব্যথা অনুভব করতে পারেন। যা ডাক্তার বা সার্জনের পরামর্শে ব্যথানাশক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। আপনি কত দ্রুত বায়োপসির ফল পাবেন তা নির্ভর করে আপনার বায়োপসি কোন ধরনের ও পর্যায়ের। তবে নির্ভরযোগ্য ল্যাব বা বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে করা গেলে ভালো হয়। রিপোর্টের ওপর একজন রোগীর পরবর্তী চিকিৎসার পদক্ষেপ নিতে হয়।
