বরগুনার আমতলীতে গরু চুরির বিচার না পেয়ে অভিযুক্তদের নামে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম (৫২)। আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গেরাবুনিয়া গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম এলাকার মানুষের কাছে ও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে মামলা দায়ের করেন গেরাবুনিয়া এলাকার মো. বাকর খা, মো. কবির রাড়ি ও মো. ইব্রাহিম খাঁ বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৭ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে গেরাবুনিয়া এলাকায় চলতি বছরের জুলাই মাসের ২৩ তারিখে রাতের আঁধারে সুফিয়া বেগমের গোয়াল ঘর থেকে ২টি গরু নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকার মতো। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর হোসেনের নেতৃত্বে এ বিষয় সালিশ ব্যবস্থা করার কথা বলে দিনের পর দিন ঘুরায় তারপর বাধ্য হয়ে সুফিয়া বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সুফিয়া বেগম মামলায় উল্লেখ করেন, আমার স্বামী নাই আমি ৫টি গরু লালন পালন করিয়া উপার্জিত অর্থ দিয়া জীবিকা নির্বাহ করি। ঘটনার তারিখ এবং সময় আমি আমার গোয়াল ঘরে ৫টি গরু বাঁধিয়া রাখিয়া ঘরে ঘুমাইয়া পড়ি। আসামিরা ঘটনার তারিখ ও সময় আমার গোয়াল ঘর হইতে দুইটি লাল রং এর বলদ গরু দড়ি খুলিয়া চুরি করিয়া নিয়া যায়। যাহার অনুমান মূল্য (দুই লাখ) টাকা হইবে। আমার ছেলে আব্বাস পটুয়াখালী হইতে বাড়ি ফেরার পথে গলাচিপার নিজসুপারী গ্রামে আজাহার জোমাদ্দার বাড়ির পূর্ব পার্শ্বে দিয়া আসার সময় আসামিদের ২টি লাল বলদ গরু নিয়া যাইতে দেখে। তখন আমার ছেলে আসামিদের এত রাতে গরু নিয়া যাইবার কথা জিজ্ঞাসা করিলে আসামিরা জানায় যে, তাদের গরু বহনকারী গাড়ি পথে নষ্ট হইয়া যাওয়ায় তাদের দেরি হইয়াছে। তাহারা গরু দুইটি বাদুরা বাজার হইতে খরিদ করিয়াছে। আমার ছেলে বাড়ি আসার পর গোয়াল ঘরে দিকে তাকাইয়া দেখে গোয়াল ঘরে গরু নাই।
এ বিষয় আঠারগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন সাহেবের নিকট মৌখিক অভিযোগ দায়ের করিলে তিনি আসামিদের বিগত ইং ১৮/১১/২০২৫ তারিখ তার নিজ অফিস কক্ষে ডেকে ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করিলে আসামিরা গরুচুরির কথা স্বীকার করিয়া ২৫/১১/২০২৫ তারিখ গরুর টাকা চেয়ারম্যান অফিসে জমা দিবে বলিয়া অঙ্গিকার করে। কিন্তু ২৫/১১/২০২৫ তারিখ আসামিরা চেয়ারম্যান অফিসে যায় নাই এবং টাকা জমা দেয় নাই।
এ বিষয় অভিযুক্ত ইব্রাহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন অমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা করেছে তাদের সঙ্গে আমাদের পূর্বশত্রুতা রয়েছে ।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. সাইদুল ইসলাম বলেন আদালতের নির্দেশে মামলা থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত চলছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পাবে এনসিপি, যা জানাল মার্কিন সংস্থার জরিপ
‘এখনো ট্রাভেল পারমিট চাননি তারেক রহমান’