ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ আবারও বড়সড় জুয়া কেলেঙ্কারির মুখে। এক তদন্ত–রিপোর্টে উঠে এসেছে বিস্ফোরক অভিযোগ—ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের মালিক টনি ব্লুম নাকি ৬০ কোটি পাউন্ড (টাকায় প্রায় ১০ হাজার কোটি)-এর এক গোপন জুয়া সিন্ডিকেট পরিচালনা করে ফুটবল ম্যাচে বাজি ধরেছেন। আরও অভিযোগ, রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের সাবেক সহযোগী জর্জ কটরেলকে নাকি অফশোর গেমিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই জুয়া নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়েছে।
২০০৯ সাল থেকে ব্রাইটনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টনি ব্লুম। ক্লাবটির আধুনিক অবকাঠামো, খেলোয়াড় উন্নয়ন ও লিগে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পেছনে তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত। ২০২৪ সালে ব্লুমকে এমবিই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। কিন্তু ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী বহুদিন ধরেই ক্রীড়া জুয়ার সঙ্গে যুক্ত। লন্ডনের ক্যামডেনে তার কোম্পানি স্টারলিজার্ডকে ভিত্তি করে চলেছে ব্লুমের ব্যক্তিগত জুয়া সিন্ডিকেট। ধারণা করা হয়, এতে শতাধিক সদস্য রয়েছে।
লন্ডনের হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার নথিতে প্রথম এসব অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন স্টারলিজার্ড কর্মী রায়ান ডাডফিল্ড দাবি করেছেন, সিন্ডিকেটটির মাধ্যমে অর্জিত ১.৭৫ কোটি পাউন্ড লাভ তার পাওনা। তিনিই নাকি জর্জ কটরেলকে এই জুয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছিলেন। কটরেলকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘হোয়েল’—অর্থাৎ যিনি সিন্ডিকেটের হয়ে বিশাল অঙ্কের বেট প্লেস করেন। কটরেল আট বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডার্ক ওয়েবে অর্থপাচারে সহযোগিতা করার অভিযোগে জেলও খেটেছেন।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ব্লুম ও তার সহযোগীরা ‘সিক্রেট এক্সোটিক অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করে জুয়া চালিয়েছেন। এমনকি পরিচিত ফুটবলার, খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্টও নাকি ব্যবহার করা হয়েছে—যদিও *দ্য টাইমস* জানিয়েছে, কোনো সাবেক ফুটবলার এতে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—ব্লুম নাকি ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পেয়েছেন। এফএ ও একটি স্বনামধন্য অ্যাকাউন্টিং ফার্ম নাকি ব্লুমের প্রতিটি জুয়া নজরদারি করে, এবং এখন পর্যন্ত তিনি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্লুমের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড। তিনি শুধু ব্রাইটন নন—বেলজিয়ামের রুয়াল ইউনিয়ন সাঁ জিউলোয়া, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ভিক্টরি ও স্কটল্যান্ডের হার্ট অব মিডলথিয়ান—এই তিন ক্লাবেরও শেয়ারধারী।
হাইকোর্টের মামলাটি এখনো বিচারাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব মালিকানা থেকে শুরু করে এফএ-এর বেটিং নীতি—সবই বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। তবে এখন পর্যন্ত ব্লুম বা ব্রাইটন কোনো বক্তব্য দেয়নি।
ভিসা জটিলতা, শহর বদলের হুমকি—ট্রাম্পের কারণে চাপে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন