তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালে প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতার চেয়ে এখনকার (অন্তর্বর্তী সরকার) দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা অনেক খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, তখন প্রশাসনিক কাজ করার ক্ষেত্রে সচিবরা সব কাজ করে ফেলতো। কোনো কিছু দেখিয়ে দিতে হতো না। আমার সময়ে আকবর আলী খান, সাদাত হোসেনরা সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিল। তারা অনেক দক্ষ ছিল। এখন কাজ করার অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। এখন সবকিছু নিজেকে পড়ে দেখতে হয়, পরীক্ষা করতে হয়।
আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘দারিদ্র্য বিমোচনে স্থানীয় প্রশাসন’ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পর্যটন ভবনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একেএম এনামুল হক।
দেশে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, শুধুমাত্র গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটতে পারে না। এখানে রাজনৈতিক অর্থনীতি করতে হবে। রাজনীতি যদি জনকল্যাণমুখী না হয়ে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য হয়, তাহলে যুব সমাজ ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতিকে বেছে নেবে। এছাড়া সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একটা সুবিধাভোগী বলয় তৈরি করে জনকল্যাণমুখী নীতি নির্ধারণে বাঁধা তৈরি করবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া। এক, কার্যকর জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটানো। দুই, সেই গণতন্ত্র ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে এবং সর্বশেষ গুণগত উন্নয়ন, যা ন্যায্য সমাজ, বৈষম্য ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে এখন সীমিত প্রত্যাশা হলো কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। দুঃখজনক বিষয় হলো, স্বাধীনতার এতদিন পর কার্যকর বন্দোবস্ত সীমিত হওয়াটা দুঃখজনক। তবুও নতুন দেশে টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের প্রচেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপদেষ্টা বলেন, আগে বিবিএসের উৎপাদিত পরিসংখ্যান মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে করতে হত, ফলে নানা ধরনের সন্দেহ আছে। জিডিপি ভালো হলেই জনকল্যাণ হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিবিএসের সংস্কার নিয়ে আমরা ভাবছি। তাদেরকে স্বাধীন করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে? বিবিএসের স্বাধীনতা থেকেও তাদের উৎপাদিত তথ্যের স্বচ্ছতা জরুরি।
রাজনৈতিক দলগুলোকে ন্যায্য ও বৈষম্যবিরোধী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তা থাকতে হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একেএম এনামুল হক জানান, দুই দিনের গবেষণা সম্মেলনে প্রায় অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো উঠে আসবে। আমাদের যুব বেকার বাড়ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে এবং স্বাস্থ্য খাতে নানা সংকট বিরাজমান। এসব বিষয় উঠে আসবে আলোচনার মাধ্যমে।
