গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ

৮ মরদেহের ডিএনএ সংগ্রহ ও পোস্টমর্টেম সম্পন্ন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৫ পিএম

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের মরদেহ শনাক্তে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে কাজ শুরু করেছে সিআইডি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে থেকে তোলা মরদেহের ডিএনএ সংগ্রহ এবং পোস্টমর্টেমের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জানান, ‘মরদেহ তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত দুইটি লাশ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ এবং পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে। গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুইটি, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) চারটি মরদেহের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘আনাসের মতো যারা বুকের রক্ত ঢেলে দেশের জন্য রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। এই কবরস্থানে যাদের নাম-পরিচয় অজানা, তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফান্ডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি গত ৪০ বছরে ৬৫টি দেশে একই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করেছেন।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে মরদেহ তোলা, পোস্টমর্টেম, ডিএনএ স্যাম্পলিংসহ প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হবে। সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেডিকেল, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি এবং বিভাগীয় কমিশনারসহ সব স্টেকহোল্ডারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ১১৪টি কবর চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বাস্তবে কমবেশি হতে পারে। মরদেহ তোলার পর পোস্টমর্টেম, স্যাম্পল/টিস্যু সংগ্রহ এবং ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে মরদেহ ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনরায় দাফন করা হবে।

পরিচয় শনাক্তের পর কেউ চাইলে মরদেহ গ্রহণ করতে পারবে। এখন পর্যন্ত ১০ জন স্বজন আবেদন করেছেন এবং আরও কেউ চাইলে সিআইডিতে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ইউএনএইচআর আর্জেন্টিনার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার বলেন, ‘আমি গত তিন মাস ধরে সিআইডির সঙ্গে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আমরা স্থানীয় সংস্থাকে সহায়তা করব যাতে পুরো প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক ফরেনসিক রুলস মেনে হয়।’

সিআইডি প্রধান সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, মরদেহের কোনো ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এটি একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কাজ, যার জন্য সকলের সহযোগিতা জরুরি। তিনি পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, শহীদদের পরিচয় উদঘাটন করে দেশের বেদনার দায় কমানো সম্ভব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত