পুলিশ কনস্টেবলের হাতুড়ি পেটায় সাংবাদিক আহত

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৫ পিএম

বরিশালে ফ্ল্যাটে ঢুকে এশিয়ান টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধানকে হাতুড়ি পেটা করেছে এক পুলিশ সদস্য। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর গোড়াচাঁদ দাশ রোডে একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল নাবিদ আনজুম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ফিরোজ মোস্তফা জানান, নাবিদ আনজুম তার পূর্ব পরিচিত ছিল এবং সেই কারণে তার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। কিন্তু পুলিশে চাকরি করা সত্ত্বেও নাবিদ মাদক সেবন এবং অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন নাবিদের ই-মেইল আইডি হ্যাক হয়ে যায়। সেই ঘটনার দায় তিনি ফিরোজের উপর চাপিয়ে দেয়। এর পর থেকেই দুজনের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়।

ফিরোজের অভিযোগ অনুযায়ী, নাবিদ গোপনে তার মোবাইল ফোন থেকে তার এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি চুরি করে। এই ছবি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়।

গত ২৫ অক্টোবর রাতে নাবিদ লোকজন নিয়ে ফিরোজের বাসায় প্রবেশ করে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। তারপর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত তার এবং তার স্ত্রীর ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তাকে আটকে রেখে উলঙ্গ করে এবং ভিডিও ধারণ করে।

অবশেষে লোকলজ্জা অতিক্রম করে ফিরোজ ২ নভেম্বর জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানান। কোতয়ালী মডেল থানা থেকে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

আহত হওয়ার পর থানায় যাওয়ার পরেও পুলিশ কনস্টেবল হওয়ার কারণে থানার অফিসার ইনচার্জ নাবিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। এই অবস্থায় ফিরোজ ৩ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।

গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ কমিশনার কার্যালয় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবুল কালাম আজাদকে অভিযোগ তদন্তের জন্য নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারের সময় নাবিদ পুনরায় ফিরোজকে হুমকি দেয়। 

ফিরোজ আরও অভিযোগ করেন যে থানা পুলিশ মামলা না নিলেও কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক সাঈদ নাবিদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি তদন্তের নামে ফিরোজকে থানায় ডেকে নিয়ে তার ল্যাপটপ নিয়ে যান। পরবর্তীতে সাবেক অফিসার মিজানুর রহমানের নাম বলে ফিরোজকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

যখন ফিরোজ পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ দাখিল করে, তখন এই সকল পুলিশ কর্মী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে নাবিদ গোড়াচাঁদ দাশ রোডের ফিরোজের বাসায় ঢুকে তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোমেলোভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। এক পর্যায়ে সে ফিরোজকে ঘরে আটকে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় ফিরোজ জরুরি নম্বরে কল করে সাহায্য চান। কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তারা জরুরি কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে সাংবাদিকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তবে তিনি জানান যে তিনি সম্প্রতি এই থানায় নিয়োগ পেয়েছেন এবং এর আগে এই দুজনের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কিনা তা তার জানা নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এখন পর্যন্ত এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত