হয়রানিমুক্ত পাসপোর্ট ও দালালমুক্ত মেডিকেল সেবা চায় প্রবাসীরা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২১ পিএম

হয়রানিমুক্ত পাসপোর্ট সরবরাহ ও দালালমুক্ত মেডিকেল সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রবাসী শ্রমিকরা। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

এসময় স্বল্প সুদে ঋণ, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, টিকিট মূল্য নিয়ন্ত্রণ, পেনশন সুবিধা, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণসহ ১৯ দফা দাবি জানানো হয়।

‘আমরা সচেতন রেমিট্যান্সযোদ্ধা’ ব্যানারে এই দাবি তোলা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যাগুলো নিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীরা ভোটাধিকার পেয়েছে। তবে প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের দৃশ্যমান ভূমিকা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। জুলাই আন্দোলনের পর বিদেশে গিয়ে কিছু অপরাধী প্রবাসীদের অপহরণ, চাঁদাবাজি ও হত্যার সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। এসব বিষয় সরকার জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে তোলা সংগঠের দাবি হলে- 

১.  বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য স্বল্প সময় ও হয়রানিমুক্ত পাসপোর্ট সরবরাহ করতে হবে।

২.  ভিসার কপি দিয়ে জামানত ছাড়া, স্বল্প সুদে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা ঋণ দিতে হবে।

৩. বিদেশগামী যাত্রীদের মেডিকেল পরীক্ষায় দালালমুক্ত ও সঠিক রিপোর্টের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৪. যাত্রীদের সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করে বিদেশে আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৫. বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে প্রবাসীদের সম্মানজনক ও দ্রুত সেবা দিতে হবে।

৬. প্রবাসী কর্মীদের কোম্পানিতে বেতন, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে কিনা তা বাংলাদেশি মিশনগুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৭. বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য ভিসা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির যাচাই-বাছাই করতে হবে।

৮. সরকার নির্ধারিত খরচের মধ্যে কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৯. সব এয়ারলাইন্সের টিকিট মূল্য গন্তব্যস্থান অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

১০. প্রবাসীদের জন্য সব বিভাগীয় শহরে একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে হবে।

১১.  প্রবাসীদের পরিবারের সম্পদ ও জান-মালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১২. বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে তাদের কোনো কাজের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে।

১৩. সব প্রবাসীকে তাদের কর্মরত দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে হবে।

১৪. যারা ১০ বছরের বেশি প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন, তাদের পেনশনের আওতায় আনতে হবে।

১৫.  অসুস্থ কর্মী ও প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সব খরচ নিয়োগকর্তাকে প্রদান করতে বাধ্য করতে হবে, অন্যথায় বাংলাদেশ সরকারকে নিজ খরচে এই কার্য সম্পাদন করতে হবে।

১৬. প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশি মিশনগুলো প্রতি ৩ মাস পর পর গণশুনানির আয়োজন করতে হবে।

১৭. বিভিন্ন দেশে যে সব প্রবাসীরা অবৈধ হয়ে আছেন, তাদের বৈধ করার চেষ্টা চালাতে হবে, অন্যথায় তাদের দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৮. যে সব দেশে বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠায় না, সে সব দেশে অবৈধ পথে ঝুঁকি নিয়ে কর্মী যাওয়া বন্ধ করতে হবে।

১৯. অভিবাসন খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বা সচিবের মতবিনিময় করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক শিপন, কাউছার, ইলিয়াস হোসাইন, ফখরুল ইসলাম, আল মামুন, ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর সরকার, আব্দুর রহিম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত