পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে তেল খাতে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, তেল অনুসন্ধান, উৎপাদন ও পরিশোধন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই রাশিয়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা। তিনি বলেন, ‘এই সব খাত রাশিয়ার শক্তিশালী দিক। আমরা চাই, এ খাতে রাশিয়া যদি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়।’
আওরঙ্গজেব আরও জানান, বর্তমানে উভয় দেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ জানান, পাকিস্তানের একটি তেল শোধনাগার আধুনিকায়ন বা উন্নয়নের বিষয়েও রাশিয়া ও সংশ্লিষ্ট রুশ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর নতুন জ্বালানি বাজার খুঁজতে শুরু করে রাশিয়া। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করে ইসলামাবাদ।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, পাকিস্তানে আরেকটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে রাশিয়া ও পাকিস্তান।
এর আগে ২০২৩ সালে সরকারিভাবে চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের চালান গ্রহণ করে পাকিস্তান। ওই বছরের জুন মাসে ৪৫ হাজার টন রুশ অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাংকার করাচি বন্দরে পৌঁছায়। একই বছরের এপ্রিল মাসে দীর্ঘ আলোচনার পর ১ লাখ টন রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রথম অর্ডার দেয় পাকিস্তান সরকার।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুন মাসের শেষ দিকে আরও একটি চালান করাচি বন্দরে পৌঁছায়, যেখানে ৫৫ হাজার টন ছাড়মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল। তবে পাকিস্তান রিফাইনারি লিমিটেডের (পিআরএল) সীমিত সংরক্ষণ ক্ষমতার কারণে ওই চালান পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
