বিশ্বকাপে ছেলের অজানা গল্প শোনালেন দিবু মার্তিনেজের বাবা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫৮ পিএম

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের তিন বছর পূর্তিতে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো দিবু মার্তিনেজের বাবা বেতো মার্তিনেজ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন ছেলের সঙ্গে কাটানো সময়ের নানা অজানা গল্প তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলা একটি ব্যতিক্রমী জাদুঘরের গল্পও শোনান।

বেতো মার্তিনেজ বলেন, ‘টেলিভিশনে সেই মুহূর্তগুলো দেখলে আজও আমার গা শিউরে ওঠে। সবচেয়ে ভয় পেয়েছিলাম নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে লাউতারো মার্তিনেজের শটের সময়। তখন আমার রক্তচাপ হঠাৎ নেমে গিয়েছিল। কিন্তু এমিকে এত শান্ত দেখে পরে আর ভয় লাগেনি।’

ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, প্রতিটি ম্যাচের পর ছেলের সঙ্গে দেখা করতেন। একসঙ্গে খাবার খেতেন। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হার নিয়েও দিবু নিজেকে ক্ষমা করতে পারেননি বলে জানান বেতো। তিনি বলেন, মেক্সিকোর বিপক্ষে মেসির গোল না হওয়া পর্যন্ত সবার মধ্যেই ভয় কাজ করছিল।

ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে কলো মুয়ানির শট ঠেকানোর সেই ঐতিহাসিক সেভ নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন বেতো মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমি তখন বসে ছিলাম, ভিড়ের কারণে কিছুই দেখতে পাইনি। সবাই উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিল, কিন্তু কী হয়েছে বুঝিনি। পরদিন ভিডিও দেখে বুঝলাম, আমার ছেলে কী অসাধারণ কিছু করেছে।’

জয়ের পর মাঠে ছেলের কাছ থেকে পাওয়া কথাও আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। বেতোর ভাষায়, ‘ও আমাকে বলেছিল, সব উদযাপন তোমার জন্য। তখন আর কথা বলতে পারিনি।’

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি মার দেল প্লাতায় নিজের বাড়ির ভেতরের জাদুঘর দেখান। সেখানে রাখা আছে ফাইনালের গ্লাভস ও বুট, বিশ্বকাপের বল, সেরা গোলরক্ষকের ট্রফি, কোপা আমেরিকার সঙ্গে তোলা ছবি, এমনকি ফাইনালের গোলপোস্টের জালও। গর্বের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ঘরের কথা কেউ জানত না, এখন সবাই জানবে।’

ছোটবেলার প্রশিক্ষণের গল্প বলতে গিয়ে বেতো জানান, বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার অনুশীলনের জন্য বাড়ির পেছনে একটি তোশক পেতে ছেলেকে শেখাতেন। সেই কঠোর পরিশ্রমই আজ তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকে পরিণত করেছে। শেষে তিনি বলেন, ‘মানুষ আজ যাকে নিয়ে পাগল, একসময় কেউ তাকে চিনত না। এই পথচলার প্রতিটি স্মৃতিই আমার কাছে অমূল্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত