পে স্কেল নিয়ে যে কারণে এতো টালবাহানা!

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বহুবার আলোচনা, কমিশন গঠন ও আশ্বাসের পরও পে স্কেল প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

গত বছর গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি। এর ফলে কর্মজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে। কর্মচারীরা দাবি তুলছেন, নতুন পে স্কেলে বৈষম্য দূর করে সর্বনিম্ন বেতন ৩২ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ধরে ১৩ গ্রেডের কাঠামো প্রণয়ন করা হোক।

বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি আদায়ে সক্রিয় হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কর্মস্থলে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকের মতে, পে স্কেল নিয়ে এই টানাটানির পেছনে সরকারি সিদ্ধান্তের বিলম্ব ও বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা দায়ী।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো তাদের দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছেন। তারা পে কমিশন গঠন, নির্বাচন গ্রেড পুনঃপ্রবর্তন ও ভাতার উন্নয়নসহ নানা দাবি উত্থাপন করেছেন। এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডের দাবিতে অনশন ও ধর্ণা দিয়েছেন, যেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এই টানাটানির মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বেতন কাঠামো ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রতা, নিম্ন গ্রেডের বেতন ও ভাতার বৈষম্য এবং পে কমিশনের কাজে বিলম্ব। কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, পে স্কেল সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে এবং সরকারি কাজের গুণগত মান কমবে।

এ অবস্থায় সরকার ও বেতন কমিশনের প্রতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একটি সমাধানমুখী সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত