শেরপুরে ফুলকপির কেজি ২ টাকা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৬ এএম

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় শীতকালীন সবজির ভরপুর সরবরাহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন ফুলকপি চাষিরা। উপজেলার সর্ববৃহৎ কাঁচা-শাকসবজির পাইকারি বাজার ফুলবাড়ি হাটে ফুলকপির দামে ধস নেমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ টাকা দরে।

শীতকালীন সবজির মৌসুমে ফুলবাড়ি বাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ভালো দামের আশায় তাদের উৎপাদিত সবজি নিয়ে আসছেন। বাজারজুড়ে সবুজ শাকসবজির সমাহার থাকলেও অতিরিক্ত আমদানি, ক্রেতা সংকট ও সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা অত্যন্ত কম দামে টাটকা সবজি বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাড়িদহ, খামারকান্দি, মির্জাপুর ও খানপুর ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে ফুলকপিসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) গাড়িদহ ইউনিয়নের ফুলবাড়ি পাইকারি বাজারে প্রতি মন (৪০ কেজি) ফুলকপি বেচাকেনা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। অর্থাৎ, কৃষকরা জমি থেকে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ২ টাকা দরে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ফুলকপি উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে অন্তত ৫ থেকে ৭ টাকা। সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দামে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে শীতকালীন সবজির বাজার দর ক্রমাগত কমতে থাকায় কম দামে সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না চাষিরা। এতে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন অনেক কৃষক।

বাজারে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাস আগে ফুলকপির দাম ছিল প্রতি মন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ১৫ দিন আগে ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মন দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত তিন দিন ধরে ৮০ থেকে ১০০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমান দামে উৎপাদন খরচ, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন খরচ কোনোটাই উঠছে না। এভাবে বাজার দর অব্যাহত থাকলে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এদিকে বাজারে আসা পাইকার কারিমুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে চাহিদার তুলনায় বাজারে ফুলকপির সরবরাহ অনেক বেশি। সে কারণেই দাম হঠাৎ করে কমে গেছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জুলফিকার হায়দার বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত