ভারত সফর করে মেসি কতো টাকা পেয়েছেন, জানা গেলো তদন্তে 

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম

লিওনেল মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর মোট ব্যয় ছিল ১০০ কোটি রূপি। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ এসেছে স্পনসরদের কাছ থেকে, আর আরও ৩০ শতাংশ আয় হয়েছে টিকিট বিক্রি থেকে। কলকাতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত তদন্তকারীদের কাছে এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর জেরায় এসব তথ্য প্রকাশ করেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সফরের জন্য মেসিকে দেওয়া হয়েছে ৮৯ কোটি রূপি, আর ভারত সরকার কর হিসেবে পেয়েছে ১১ কোটি রূপি। ফলে পুরো সফরের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১০০ কোটি রূপিতে।

অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শক উচ্চমূল্যের টিকিট কেটে উপস্থিত হলেও মাঠে মেসির চারপাশে অতিরিক্ত লোকজন ভিড় করায় গ্যালারি থেকে তাঁকে ঠিকমতো দেখা যায়নি। এতে দর্শকদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়।

এই ঘটনার পর ভাঙচুর, নিরাপত্তার ঘাটতি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি এসআইটি গঠন করা হয়।

তদন্তে শতদ্রু দত্ত দাবি করেন, শুরুতে মাঠে প্রবেশের জন্য মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু এক ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি’ স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর সেই সংখ্যা তিনগুণ হয়ে যায়। ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যান, যার ফলে ভিড় সামলানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়াই কি জননিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ার মূল কারণ ছিল।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে শতদ্রু দত্ত আরও জানান, মেসির নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে তিনি পিঠে স্পর্শ বা আলিঙ্গন পছন্দ করেন না। কিন্তু বারবার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মাঠে যেভাবে তাঁকে ঘিরে ধরা ও জড়িয়ে ধরা হয়েছে, তা বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল বলে তদন্তকারীদের জানান শতদ্রু।

অনুষ্ঠান চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে মেসির একেবারে কাছাকাছি থাকতে দেখা যায়। কিছু দৃশ্যে তাঁকে মেসির কোমর ধরে ছবি তুলতেও দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয় ও পরিচিতজনদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। প্রবল সমালোচনার মুখে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অরূপ বিশ্বাস।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কীভাবে মাঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পেল এবং সেই ব্যর্থতার দায় কার ওপর বর্তায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত