গাজীপুরের শ্রীপুরে অগ্নিকাণ্ডে পোশাক শ্রমিকদের বসবাসরত সেমিপাকা ১১টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আগুনে ঘরে থাকা সকল জিনিসপত্র পুড়ে ছাই। তবে কেউ হতাহত হয়নি এ আগুনে। রফিকুলের এসব ঘর ভাড়া দেওয়া বিভিন্ন পোশাক শ্রমিকদের কাছে। সবাই বাসার আশপাশে চাকরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে ওই বাড়ির একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৩০টি কক্ষের মধ্যে ১১টি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই সব পুড়ে গেছে। তারা বলেন এসব ঘরে নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের বসবাস। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া পাবেল রহমান বলেন, “ভোরে হঠাৎ আমার কক্ষে আগুন লাগে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যসব ঘরে। সব ঘর সারিবদ্ধ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন সব পুড়ে শেষ আমরা কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু চেয়ে আগুনের লেলিহান দেখেছি। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আতর আলী জানান, খবর পাওয়ার অনেকক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল আসেন। সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও তারা আসতে গড়িমসি করেছে। ফলে ক্ষতিটা অনেক বেশি হলো। আরও আগে আসলে ক্ষতি কিছু রোধ করা যেত। এটা তাদের গাফিলতি। তিনি বলেন অসহায় পোশাক শ্রমিকদের কান্নার রোল পড়ে গেছে। তাদের কান্নায় অন্যরাও চরম শোকাহত।
বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাড়াটিয়ার এককক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে আমার বাড়ির ৩০টি ভাড়া ঘরের মধ্যে ১১টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আসবাবপত্র সব পুড়ে গেছে। তিনি দাবি করেন অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নুরুল করিম জানান, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। যতটুকু দেরি তা পথের দূরত্ব। এখানে গাফিলতির কিছু নেই। আমাদের সব কাজের গুরুত্ব সমান ভাবে দেখি।
প্রয়াত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রযোজক