ঢামেকে রেখে যাওয়া লাশের পরিচয় মিলল

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১২ পিএম

ঢাকা মেডিকেলে রেখে পালিয়ে যাওয়া সেই লাশের পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। তার নাম রাশেদা আক্তার (২২)। গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী নয়ন ইসলাম শ্বাসরোধে করে তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করেন তার বড় বোন খালেদা আক্তার ও দুলাভাই মো. মামুন।

এর আগে, গত সোমবার রাতে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের সামনে ওই তরুণীর লাশ রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক।

মাগুরা সদর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক ও নুরুন্নাহার বেগমের মেয়ে রাশেদা। 

তার বোন ও দুলাভাই জানান, মাগুরার আলোকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রী কলেজ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে রাশেদা। কিছুদিন আগে গ্রাম থেকে তার বোন খালেদা ঢাকায় মিরপুর-১ আনসার ক্যাম্পে এলাকায় তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় এসে থাকতে শুরু করেন এবং মিরপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। তার দেখাদেখি ছোট বোন রাশেদাও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল পাবার পর চলতি মাসের ৭ তারিখ মিরপুরে একই বাসায় এসে ওঠে। এরপর সেও গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তারা জানান, শনিবার রাশেদা গার্মেন্টসে গিয়েছিল না। সারাদিন বাসাতেই ছিল। রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়৷ এরপর আর বাসায় ফিরেনি। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, শনিবার রাতে নিজ গ্রামের পাশের বাড়ির মতিউর রহমানের ছেলে নয়ন ইসলাম ঢাকায় এসে মিরপুরের ওই বাসার সামনে রাশেদার সাথে কথা বলছিল। এক পর্যায়ে একটি দোকানের সামনে বসে দুজন তুমুল ঝগড়াও করে। কিছুক্ষণ পর দুজনই সেখান থেকে চলে যায়। এরপর আর কোন খবর মিলছিল না রাশেদার। ফোনেও পাওয়া যাচ্ছিল না।

রাশেদার দুলাভাই মামুন বলেন, মঙ্গলবার সকালে গ্রাম থেকে একজন রাশেদার বড় বোন খালেদাকে ফোন করে জানায়, গ্রামের বলাবলি করছে নয়ন রাশেদাকে মেরে ফেলেছে। নয়নের বাড়ির সবাই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। রাশেদার লাশ ঢাকা মেডিকেল রয়েছে।

এই খবরের ভিত্তিতে বোন ও দুলাভাই ঢাকা মেডিকেলের মর্গে গিয়ে খুঁজে রাশেদার লাশ সনাক্ত করেন।

খালেদা অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরে নয়ন আমার বোনকে ডিস্টার্ব করত। ওর জন্য আমার বোন পড়তেও পারত না। ওই নয়নই আমার বোনকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছে। সেই লাশ মেডিকেলে রেখে পালিয়েছে সে। নয়নের কঠিন বিচার চাই আমরা। এই ঘটনার সাথে আর কে কে জড়িত আছে, তাদেরও বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম আজম জানান, ওই তরুণীর স্বজনরা মঙ্গলবার রাতে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত