নির্মাণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকে ভূমিকম্প সহনশীলতা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৬ এএম

শীর্ষস্থানীয় আবাসন ব্যবসায় গ্রুপ রূপায়ণের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাহির আলী খাঁন রাতুল। সম্প্রতি আবাসন ব্যবসায়ের নানা দিক এবং রূপায়ণের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সাল খান। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো

দেশ রূপান্তর : আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের ভূমিকা কতটুকু?

মাহির আলী খাঁন রাতুল : বাংলাদেশের উচ্চজনসংখ্যার ঘনত্ব এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাসন সমস্যা আজ একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি ডেভেলপাররা দেশবাসীর আবাসন চাহিদা পূরণে কার্যকর অবদান রাখছে।

দেশ রূপান্তর : মানসম্মত আবাসন তৈরিতে আপনার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী?

মাহির আলী খাঁন : রূপায়ণ গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সুপ্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পরিকল্পিত আবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে। ইতিমধ্যে আমরা প্রায় ৮ হাজার আবাসিক ইউনিট এবং এক হাজার প্লট সম্মানিত গ্রাহকদের কাছে সফলভাবে হস্তান্তর করেছি।

দেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি রূপায়ণ সিটি উত্তরা আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি, যেখানে বর্তমানে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার পরিবার সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন। এই প্রকল্পে ৬৩ শতাংশ খোলা জায়গা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সবুজায়নের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য শুধু ফ্ল্যাট বা বাড়ি নির্মাণ নয়; বরং নিরাপদ, সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক ভূমিকা রাখছি।

দেশ রূপান্তর : চলমান প্রকল্প ও আগামী দিনের পরিকল্পনা কি আছে?

মাহির আলী খাঁন : বর্তমানে রূপায়ণ গ্রুপের অধীনে আরও ১০ হাজার ৫০০ আবাসিক ইউনিট এবং ৬ হাজার  প্লটের উন্নয়নকাজ দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রূপায়ণ নর্থ সাউথ সিটি একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। যা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন-ব্লকে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা স্থপতিদের পরামর্শে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি দেশের আবাসন খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প নাড়া দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে টেকসই ও ভূমিকম্প সহনশীল নগরী গড়তে আপনারা কী অবদান রাখছেন?

মাহির আলী খাঁন : টেকসই নগরায়ণ এবং ভূমিকম্প সহনশীল নির্মাণ বর্তমান সময়ের একটি অপরিহার্য বিষয়। রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিটি স্থাপনা উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প সহনশীলতা বিবেচনায় নকশা ও নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি নির্মাণে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকে ভূমিকম্প সহনশীল স্থাপনা।

আমরা প্রতিটি প্রকল্পে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)-এর আন্তর্জাতিক মানদ- কঠোরভাবে অনুসরণ করি। ভবন নির্মাণে উন্নতমানের রড, কংক্রিট ও আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে স্থাপনাগুলো দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও টেকসই থাকে। পাশাপাশি প্রশস্ত সড়ক, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, সবুজায়ন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংসহ পরিবেশবান্ধব নকশার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট।

দেশ রূপান্তর : রিহ্যাব ফেয়ার নিয়ে আপনার মতামত কী?

মাহির আলী খাঁন : রিহ্যাব ফেয়ার দেশের আবাসন খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এই মেলার মাধ্যমে ক্রেতা ও ডেভেলপারদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলে।

রূপায়ণ গ্রুপ মনে করে, রিহ্যাব ফেয়ার শুধু ফ্ল্যাট বা প্লট বিক্রির একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি দেশের আবাসন শিল্পের সক্ষমতা, গুণগত মান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন আবাসন খাতকে আরও সংগঠিত, বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

মাহির আলী খাঁন : আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের পাঠকদের শুভেচ্ছা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত