হাতিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত শামসুদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ও সুখচর ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর জাগলারচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হওয়ার দুই দিন পর নিখোঁজ শামছুদ্দিন ওরপে কোপা সামসুর মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে  জাগলার চরে কেওড়া বনের মধ্যে পড়ে থাকা এই মৃতদেহের খোঁজে পায় তারা। 

মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পরিবারের সদস্যরা কোপা সামছুর মৃতদেহ বৃহস্পতিবার রাতে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছে।

এই বিষয়ে কোপা সামছুর বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম জানায়, কয়েক জন আত্মীয়কে নিয়ে তারা জাগলার চরের গহীন জঙ্গলে তার পিতার মৃতদেহ খোঁজ করার জন্য যায়। সারাদিন খোঁজা খুঁজির বৃহস্পতিবার  রাতে বনের মধ্যে একটি লাশ দেখতে পেয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পরে তারা এটি তার পিতার মৃতদেহ বলে সনাক্ত করে। তবে মৃত দেহের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানায় সে। বিষয়টি তারা পুলিশকে জানিয়েছে।

এ দিকে এই ঘটনায় হাতিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামি করে নিহত মোবারক হোসেন সিহাবের চাচা ও নিহত কোপা শামছুর ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে জাগলারচর দখলকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন ও কোপা শামছু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাসপাতালে  একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শামছুদ্দিন বাহিনীর প্রধান কোপা শামছু নিখোঁজ ছিল।

এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (৩৬), জাহাজমারা ইউনিয়নের পইকবাধা এলাকার শামছুদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন সিহাব(২১), হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডোর পশ্চিম লক্ষ্মীদিয়া গ্রামের মৃত শাহআলমের ছেলে হক সাব (৫৫), চানন্দি ইউনিয়নের মান্নান নগর এলাকার মৃত সেকুর ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৮) এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম (৫৭)।

আহতদের মধ্যে  সোহরাব (২৫) হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের ছেলে। অন্য আহতরা নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, নিখোঁজ কোপা সামছুর মৃতদেহ উদ্ধার করে শুক্রবার  ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে  পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত