অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বহুল আলোচিত মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

শুক্রবার কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। ৭২ বছর বয়সী নাজিবকে ২১টি অর্থপাচারের অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মালয়েশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ১এমডিবি থেকে অবৈধভাবে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ৫৪৩ মিলিয়ন ডলার) নিজের ব্যক্তিগত হিসেবে স্থানান্তর করেছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক কলিন লরেন্স সেকেরাহ বলেন, আসামির দাবি ছিল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘উইচ হান্ট’। এর বিরুদ্ধে পেশ করা সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্র্রমাণ তার সকল দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করেছে। সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে দেখা গেছে, ১এমডিবি কেলেঙ্কারি সত্য এবং নিজের কাছে থাকা ব্যাপক ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তিনি তার অপব্যবহার করেছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ১এমডিবির উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে নাজিব এক দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রীয় এই তহবিল থেকে বিপুল অর্থ নিজের হিসেবে সরিয়ে নেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের চারটি অভিযোগে প্রত্যেকটির জন্য ১৫ বছর এবং অর্থপাচারের ২১টি অভিযোগে প্রত্যেকটির জন্য পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

এর আগে ২০২০ সালে নাজিবকে ১এমডিবি তহবিল থেকে প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সাজা কমিয়ে ছয় বছর করা হয়।

এই সর্বশেষ মামলাটি নাজিবের দ্বিতীয় বিচার হলেও একে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল, কারণ এতে সরাসরি ১এমডিবি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অনেক বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত ছিল। সাত বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ৭৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যাদের মধ্যে নাজিব নিজেও ছিলেন।

গত বছর নাজিব ১এমডিবি কেলেঙ্কারি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে সাম্প্রতিক বিচারে তিনি দাবি করেন, পলাতক মালয়েশিয়ান অর্থলগ্নিকারী জো লো তাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিলেন। উল্লেখ্য, জো লো ২০১৬ সাল থেকে ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন।

পাঁচ ঘণ্টা ধরে রায় পাঠ শেষে বিচারক বলেন, ‘আসামি কোনো অজ্ঞ গ্রাম্য মানুষ নন। তাকে এমন একজন হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করা হচ্ছে, যিনি চারপাশে ঘটে যাওয়া অনিয়ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন—তা করুণভাবে ব্যর্থ হতেই বাধ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত