বোয়ালমারীতে তীব্র শীতে জমজমাট পুরোনো কাপড়ের বাজার

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সূর্যের দেখা মিলছে না, চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকায় কনকনে ঠান্ডায় মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

শীত থেকে রক্ষা পেতে স্বল্প আয়ের মানুষজন ঝুঁকছেন পুরোনো গরম কাপড়ের দিকে। এতে করে পৌর সদরের স্টেশন সড়কের চৌরাস্তা থেকে সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে পুরোনো কাপড়ের অস্থায়ী বাজার। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুটপাতের এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সাইজের সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, কানটুপি, মাফলার ও ট্রাউজারসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক। সাইজ ও মানভেদে এসব পোশাকের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত চার-পাঁচ দিন ধরে শীতের প্রকোপ বাড়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা তুঙ্গে। মধ্য ও উচ্চবিত্তরা শপিং মলে ভিড় করলেও নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা এখন ফুটপাতের এসব দোকান। তবে চাহিদা বাড়ায় কিছু কিছু পোশাকের দাম আগের তুলনায় একটু বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা এম জামান বলেন, ‘ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। তাই পুরোনো গরম কাপড়ের কদর এখন অনেক।’

একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘ফুটপাত থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি পুরোনো জ্যাকেট কিনেছি। দেখতে বেশ ভালো। নতুন কিনতে গেলে অন্তত দুই হাজার টাকা লাগত।’

ক্রেতা নান্নু শেখ বলেন, ‘প্রচণ্ড শীতের কারণে গরম কাপড় কিনতে হয়েছে। পুরোনো হলেও দামে সস্তা, তাই সাধ্যের মধ্যেই পেয়েছি।’

পুরোনো কাপড় বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে এবার কাপড়ের দাম তুলনামূলক কমই রাখা হয়েছে।’

আরেক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, ‘শীত বেশি হলেও দাম বাড়ানো হয়নি। আগের বছরের মতোই আছে। তবে ক্রেতারা কম দামে ভালো মানের কাপড় খুঁজছেন।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী আমীর চারু বাবলু বলেন, ‘তীব্র শীতে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা পুরোনো গরম কাপড়। অল্প টাকায় শীত নিবারণের সুযোগ থাকায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে কয়েকদিন ধরেই ভিড় বাড়ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত