গত মে মাসে ভারতের চালানো 'অপারেশন সিঁদুর এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে পাকিস্তান। চার দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রায় সাত–আট মাস পর দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, ভারতীয় ড্রোন হামলায় রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত নূর খান বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদে বর্ষশেষের এক সংবাদ সম্মেলনে দার বলেন, মাত্র ছত্রিশ ঘণ্টার মধ্যে ভারত অন্তত আশিটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠায়। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ঊনআশিটিই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এর আগে অপারেশন সিঁদুরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি পাকিস্তান সরকার। ইসহাক দারের বক্তব্যে স্পষ্ট, এ বিষয়ে ইসলামাবাদ আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এছাড়াও দার দাবি করেন, সংঘাত চলাকালে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি
দার আরও জানান, সংঘাতের সময় পাকিস্তান কোনো পক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতা চায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দশ মে সকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁকে ফোন করে জানান, ভারত যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী। পরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের যোগাযোগের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।
দার মন্তব্য করেন কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানিয়েছেন, সংঘাতের সময় তাঁকে বাংকারে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, যা ভারতের অভিযানের পর ইসলামাবাদে সৃষ্ট উচ্চমাত্রার উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পরই ভারত সাত মে 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে। অভিযানের ফলাফল নিয়ে দুই দেশের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, এবার প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব নূর খান বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করল।
