লক্ষ্মীপুরের বাবার লাশ দাফন রেখে পালিয়ে যান সন্তান

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৭ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সম্পত্তির জন্য বাবার লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছেন আগের পরিবারের সন্তানরা। এ ঘটনায় তোপের মুখে লাশ রেখে পালিয়ে যায় পরের পরিবারের ছেলে মো. সোহেল। 

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়ন ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের মৃত রুহুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

‎পরিবার সূত্রে জানান, সোমবার ভোর রাতে চর লরেন্স ইউনিয়নের রুহুল আমিন দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর মৃত বরণ করেন। মৃত রুহুল আমিন দুই বিয়ে করেন। আগের স্ত্রীর বিবি হনুফাকে রেখে পরে রিজিয়াকে বিয়ের পর থেকে আগের স্ত্রী ও ওই পরিবারের সন্তানদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি রুহুল আমিন। এর মধ্যে রুহুল আমিনের মালিকানা প্রায় ৬ একর সম্পত্তি রিজিয়ার সন্তানদের নিয়ে ভোগ করতে থাকে। এরপর সকল সম্পত্তি পরের সংসারের রিজিয়ার ছেলে সোহেল বিভিন্ন কৌশলে নিজের কব্জায় নিয়ে যায়। 

রুহুল আমিন মৃত্যুর খবর শুনে প্রথম সংসারের সন্তান মোফাশ্বেরা বেগম, নাসিমা আক্তার শরীফসহ সবাই বাবার সম্পত্তির হিসাব চাইলে অভিযুক্ত সোহেল সবাইকে হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে অভিযুক্ত সোহেলের কাছে বাবার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তির হিসাব চাইলে সে কোন সম্পত্তি দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এক পর্যায় বাবার লাশ উঠানে রেখে পালিয়ে যায় সোহেল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাবার কোন সম্পত্তির আমার কাছে নাই এবং তারা যদি লাশ দাফন করতে না দেয় আমার কোন আপত্তি নাই।

‎ওই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, সিদ্দিক উল্যা, শরিফ জানান, রুহুল আমিনের অনেক সম্পত্তি ছিল। আগের পরিবারের কোন ছেলে মেয়েকে কোন সম্পত্তি না দিয়ে সব সম্পত্তি সোহেল দখল করে রেখেছে। এছাড়াও এলাকার কিছু মানুষের কাছে জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি।

চর লরেন্স ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং সদস্য আব্দুল খালেক জানান, একজন মানুষ মৃত্যুর পর দাফনে বাঁধার খবর শুনে এসে দেখি মৃত রুহুল আমিনের লাশ পড়ে রয়েছে। দুই পরিবারের মধ্যে পরের পরিবারের ছেলে সোহেলের কাছে সম্পত্তির হিসাব চাইলে সে বসে সমাধান করতে রাজি হয়নি।

‎এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, এধরনের ঘটনায় একটি অভিযোগ শুনেছি। আগে মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত