ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ঘোষণায় বিশ্ববাজারে দরপতন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘোষণা আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম নেমে আসে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের সামান্য ওপরে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৫৬ দশমিক ৪৪ ডলারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার ও সংরক্ষণাগারে আটকে থাকা প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের এই তেলের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি তার হাতেই থাকবে। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, স্টোরেজ শিপের মাধ্যমে তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য পূর্ণ প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ বর্তমানে ভেনেজুয়েলার মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই যায় চীনে। সরবরাহ ব্যাহত হলে বেইজিংকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে তেল কিনতে হতে পারে।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর দেশটির পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল হস্তান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং দেশটির জনগণের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প পুনর্গঠন নিয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে শেভরন, কনোকোফিলিপস ও এক্সন মবিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ ও ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো পুরোপুরি সংস্কার করে আগের সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ১৫ বছর সময় এবং প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এক সময় যেখানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ছিল ৩৫ লাখ ব্যারেল, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত