মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পৃথক পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। জবাবে হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে তারা।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করার এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) ক্ষেত্রে বন্ড থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। হুকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে পর্যটকদের ওভারস্টে কমলে বন্ড নীতিমালা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন। তিনি অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন। হুকার জানান, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কৃতজ্ঞ এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রয়োজন রয়েছে। ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগ সুবিধা চেয়ে অনুরোধ জানান, যা যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়। তিনি গাজায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে অংশ নিতে আগ্রহী বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

এছাড়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নির্বাচন, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিযুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-সচিব মাইকেল জে. রিগাস শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

সব কর্মসূচিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত