মাইজভাণ্ডারী শাহেদ আলী চৌধুরী

‘আমাদের কর্মে  ইমান, ইলম ও ইশক'র প্রতিফলন ঘটাতে হবে’

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

আসন্ন মহান ১০ মাঘ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) কেবলা কাবার ১২০তম পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আশেকানে হক ভাণ্ডারী, শোকর-এ মওলা মনজিলের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা, মিলাদ ও জিকরে সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়িস্থ শোকর-এ মওলা মনজিল মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ আজম-এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ শাহরিয়ার আসিফ-এর সঞ্চালনায় ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সিনিয়র সদস্য, বিশিষ্ট মাইজভাণ্ডারী লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ শাহেদ আলী চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী একাডেমীর আজীবন সদস্য ওমর ফারুক, সংগঠনের উপদেষ্টা ও পূবালী ব্যাংক কাজীরহাট শাখার ব্যবস্থাপক সৈয়দ শফিউল আজিম সুমন এবং জ্যোতি ফোরাম কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি জয়নুল আবেদিন তাওরাত।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইব্রাহীম। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ইমান, ইলম ও ইশক- এই তিনটির সমন্বয়ে আমাদের কর্ম করতে হবে। আমাদের কর্মে এই তিনটির গুণাবলির প্রতিফলন ঘটাতে হবে ইনসাফের মাধ্যমে, যা আমাদের ‘আদিল’—অর্থাৎ ন্যায় বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সৃষ্টির ওপর কোনো আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সকল সৃষ্টির প্রতি দয়াদ্র হতে হবে। মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকা একত্ববাদে বিশ্বাসী সকল মানুষের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে এবং স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি যত্নবান হওয়ার শিক্ষা দেয়। এর মধ্য দিয়ে মানব অন্তর পবিত্রতা অর্জন করে স্রষ্টার প্রেমে বিভোর হয়।

এছাড়াও তিনি আসন্ন মহান ১০ মাঘে বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা ও বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রবর্তক, ইমামুল আউলিয়া, খাতেমুল অলদ, ফরদুল আফরাদ, গাউসুল আজম হযরত শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) কেবলা কাবার ১২০তম বার্ষিক ওরশ শরীফে সংগঠন সংশ্লিষ্ট সকলকে মওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারী (ম. জি. আ.) কেবলা কাবার সদয় নির্দেশনা ও কেন্দ্রীয় পরিষদ ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে অংশগ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ দেন।

শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের পর মিলাদ ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়।

সবশেষে সংগঠনের সদস্য ও বিশিষ্ট মাইজভাণ্ডারী সংগীতশিল্পী গোলাম মওলা রনীর পরিবেশনায় জিকরে সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত