‘ছাত্রদল না পারলে ফরিদপুর মেডিকেলে বাকিরাও রাজনীতি করতে পারবে না’

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও হুমকিসূচক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির এক নেতার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রবিবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাপ) এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানটি ছাত্রদল সরাসরি আয়োজক ছিল না।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের উপস্থিত করা হয়।

এ সময় অতিথি হিসেবে ‎অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুমকিসূচক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে, মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে।’ এ বক্তব্যের পরপরই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য ও হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগজনক।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, রাজনীতির মাঠ বানাতে নয়। জোর করে রাজনীতিতে জড়ানোর চেষ্টা আমাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দুটোর জন্যই হুমকি।’

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, মেডিকেল প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। ‎তিনি বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি যদি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা সবার জন্যই হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি একটি গোষ্ঠী নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গণতান্ত্রিক দেশে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বাধ্য হয়েই আজ প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্তের পর এই বক্তব্য ও কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুপ্ত অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দাবি জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত