কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ উত্তাল হয়ে ওঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন হল, খান বাহাদূর আহছানউল্লা হল ও খান জাহান আলী হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো, রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোর্স ফি বাড়ানো হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের আবেদনের বছর ১৭ নভেম্বর ফি সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংশোধিত কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি চালু আছে এবং কোনও ধরনের ফিস বর্ধিত করা হয়নি।
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, কোনও আলোচনা ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। এই টাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি চাপ। অযৌক্তিক ফি আমরা মেনে নিতে পারি না।
অন্যদিকে ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, খুবি একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত। প্রতিনিধি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনীতি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে, যা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাই না।
তবে রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধির অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানোর কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি।
উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, টেকনিক্যাল কোনও সমস্যার কারণে ভুল তথ্য দেখা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জানায় ভুল ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচিত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো বোঝা।
