জাপানে থাকার নতুন শর্ত, শিখতে হবে ভাষা ও সংস্কৃতি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ এএম

জাপানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মকানুন আমূল বদলে যাচ্ছে। এখন থেকে দেশটিতে থাকতে হলে জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি ও আইনকানুন জানা বাধ্যতামূলক হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশিরা জাপানে কোথায় কতটুকু জমি বা সম্পত্তি কিনছেন, তার ওপরও কড়া নজরদারি রাখার সুপারিশ করেছে দেশটির সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাপানের অভিবাসন মন্ত্রী কিমি ওনোদার কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেয় বিশেষজ্ঞ প্যানেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের ভাষা ও রীতিনীতি ঠিকমতো না জানার কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক সেখানকার সমাজের সঙ্গে মিশতে পারছেন না। এই সমস্যা দূর করতে বিদেশিদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম’ বা সামাজিক একীভূতকরণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা জাপানে থাকতে চান, তাদের দেশটিতে প্রবেশের আগে এবং পরে নির্দিষ্ট এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। এতে জাপানি ভাষা ও সামাজিক নিয়মকানুন শেখানো হবে। এমনকি এই প্রোগ্রামে অংশ নেওয়াকে জাপানে থাকার অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই নিয়ম শুধু চাকরিজীবীদের জন্য নয়, বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও মাঝারি ও ছোট কোম্পানিগুলো তা পারে না। তাই সরকারিভাবে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশি নাগরিকরা জাপানিদের সঙ্গে সহজেই মিলেমিশে থাকতে পারেন।

জাপানে বিদেশিদের জমি কেনার হার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে জমি কেনার সময় মালিকের জাতীয়তা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি বা পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার আশেপাশে বিদেশিরা জমি কিনলে তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জাপানে বিদেশিদের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও সরকার চিন্তিত। বর্তমানে অনেক বিদেশি নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান জাপানে বড় এলাকা জুড়ে জমি কিনে পানি ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সম্পদ রক্ষায় এখন থেকে বিদেশিদের পানি ব্যবহারের হিসাব রাখা জরুরি।

তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে টোকিওর নতুন ফ্ল্যাটগুলোর একটি বড় অংশ বিদেশিরা কিনেছেন। বিশেষ করে টোকিওর শিনজুকু এলাকায় বিদেশি মালিকানার হার প্রায় ১৪.৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এখন এসব নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে জাপানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বিদেশিদের সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত