তাকে বলা নায়িকাদের নায়িকা,মহানায়িকা। পারিবারিক নাম রমা দাশগুপ্ত, ডাক নাম কৃষ্ণা। এই দুই নামকে পেছনে ফেলে উপমহাদেশের আপামর দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে রয়েছেন সুচিত্রা সেন নামে। বাংলা চলচ্চিত্রের অবিস্মরণীয় কালজয়ী রোমান্টিকে এই নায়িকার বাঁকা ঠোঁটের হাসিতে যে কত তরুণের হৃদস্পন্দন বাড়িয়েছেন- তা হয়ত তিনি নিজেও জানতেন না।
সুচিত্রা এক চিরসবুজ প্রেয়সী- যার বয়স ওই পর্দার ছবিতেই আজও স্থির হয়ে আছে। তার চলন-বলনের নিজস্ব স্টাইল যেন ক্রমেই অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিল সেকালের যুবতীদের কাছে। তার শাড়ি পরা বা চুল বাঁধার স্টাইল ছিল পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে কলকাতা, ঢাকার বাঙালি সমাজে আভিজাত্য এবং ফ্যাশন সচেতনতার প্রতীক। অনেকে তাকে ‘নায়িকাদের নায়িকা’ কিংবা ‘মহানায়িকা’ বলেও আখ্যায়িত করেন। কৃষ্ণা নামের সুন্দরী, সুহাসিনী মেয়েটি যখন তার পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের পাবনা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গিয়ে স্থায়ী হয়েছিলেন, তখন কি কারও পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব ছিল এই মেয়েটি এক বিরল ইতিহাস রচনা করে দেখাবেন?
উপমহাদেশের চিরসবুজ ও কিংবদন্তি এ অভিনেত্রীর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়। কিন্তু চলচ্চিত্রের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই জ্বলে থাকবেন তিনি। যুগ যুগ ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মানসপটে চিরসবুজ ও চিরস্থায়ী হয়েই বেঁচে থাকবেন এই তারকা।
নাটকের পর ১৯৫২ সালে প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’ দিয়ে শুরু চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার। কিন্তু কিছুদিন অভিনয়ের পর অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে গেল ছবির শুটিং। শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি ছবিটি। এরপর সুকুমার দাশগুপ্তর ‘সাত নম্বর কয়েদি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হলেন সুচিত্রা। এর পরের ছবি অর্থাৎ নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ ছবির মাধ্যমে রমা সেন পাল্টিয়ে ‘সুচিত্রা সেন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
তারপরের গল্পটা একেবারেই অন্যরকম। সুচিত্রা সেন অভিনীত বাংলা সিনেমা ৫২টি আর হিন্দিতে করেছেন মোট ৭টি সিনেমা। বাঙালি চরিত্রের পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রের পর্দাও কাঁপিয়েছেন তিনি। সুচিত্রা সেনের নাম শুনলেই সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি নাম স্মৃতির পর্দায় ভেসে ওঠে। উত্তম কুমার আর সুচিত্রা সেনের পর্দার রসায়ন কার না মন কেড়েছে! এক গুচ্ছ সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছে উত্তম-সুচিত্রা জুটি।
স্বপ্নের রাজকন্যা সুচিত্রা সেন জানতেন কখন, কোথায় থামতে হয়। তাই তিনি নায়িকা হিসেবে পর্দায় দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে- এই চরম সত্যটি উপলব্ধি করেই সচেতনভাবে বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে নির্জনতায় ডুবেছিলেন।
ইসির শোকজের জবাব দিলেন মামুনুল হক
প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে চলছে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি
তেহরানে হামলার ছক ভেস্তে দিল ইরান, ৬০ হাজার অস্ত্র জব্দ
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মাহমুদুর রহমান মান্না
এসি মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, আহত ১