নাটকীয়তায় ভরা শেষ ওভারে সিলেটের সামনে সমীকরণটা ছিল কঠিন—জয়ের জন্য দরকার ৯ রান, হাতে ৪ উইকেট। ২২ গজে মইন আলি ও ক্রিস ওকস, বোলিংয়ে রংপুরের ফাহিম আশরাফ। প্রথম বলে মইন নিলেন ডাবলস, এরপর দুটো ডট বল। চাপ বাড়তেই পরের বলে মইন আউট। নতুন ব্যাটার খালেদ উইকেটে এলেও শেষ মুহূর্তের মঞ্চটা নিজের করে নিলেন ওকসই।
পঞ্চম বলে ডাবলস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ওকস খালেদকে থামিয়ে দেন। নিজেই রাখেন স্ট্রাইক। সিদ্ধান্তটা ছিল মুহূর্তের, কিন্তু আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওকস বলেন, দ্বিতীয় রানের জন্য ফিরলেও খুব একটা পার্থক্য হতো না। ‘আমাদের তখনও জিততে সাত রান দরকার ছিল। আমার সঙ্গী মাত্র ক্রিজে এসেছে, আমি কিছুক্ষণ ধরে খেলছিলাম—তাই মনে হয়েছিল দায়িত্বটা আমারই নেওয়া উচিত।’
শেষ বল। জয়ের জন্য দরকার ছয়। ফাহিম আশরাফ বেছে নিলেন ওয়াইড ইয়র্কারের চেষ্টা। ঠিক সেটার জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন ওকস। কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করলেন বল—সিলেটের জয়, রংপুরের হতাশা।
ওকস জানালেন, বোলার হলে তিনি নিজেও এমন ডেলিভারিই করতেন। ‘এই পিচে স্লোয়ার আর কাটার বল মারা কঠিন। আমি কাটারের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু সে যখন গতি বাড়াল, তখন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শট খেলেছি।’
২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নায়কোচিত পারফরম্যান্স, অ্যাশেজের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত—সব দেখেছেন ওকস। তবু শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আলাদা। ‘এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সফল হতে পারিনি। এই দলের হয়ে বিপিএলে প্রথম ম্যাচেই এমন জয়—এটা সত্যিই খুব বিশেষ,’ বললেন সিলেটের নতুন নায়ক।
মিরপুরে রোমাঞ্চ, শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটকে জেতালেন ক্রিস ওকস