দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর কুমিল্লা সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি উপজেলায় পৃথক তিনটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক জনসভার অংশ হিসেবে এ সফর করছেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে প্রথমে চৌদ্দগ্রামে, এরপর সদর দক্ষিণ এবং সবশেষে দাউদকান্দিতে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। এই সফরকে ঘিরে কুমিল্লা জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জনসভাস্থলগুলোতে মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার–ফেস্টুন টানানো, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনসহ শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল ও দলীয় নিরাপত্তা টিম দায়িত্ব পালন করবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সোয়াগাজী ডিগবাজি এলাকায় ধানী জমিতে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে চৌদ্দগ্রাম ও দাউদকান্দির জনসভাস্থলেও।
দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্তত ১০ জন তৃণমূল কর্মী জানান, দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
এদিকে কুমিল্লায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত দুই দিন ধরে চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। মঞ্চের চারপাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা।
এদিকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার পৃথক তিনটি সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ২০০২ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য এখনো তার স্মৃতিতে রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ছয়টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লার পাশাপাশি আশপাশের জেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার মতে, তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বরুড়া আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, এই সফর শুধু কুমিল্লা নয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানের সরাসরি উপস্থিতি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।
কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে পুরো আয়োজনটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। জেলার তিনটি পৃথক সমাবেশে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি আমরা আশা করছি। সেই অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
