তীব্র বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী ফেডারেল অভিযানের প্রেক্ষাপটে আবারও একজনের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক ব্যক্তির প্রাণহানির পর শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে শহর থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পরে মারা যান। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। পেশায় তিনি একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এই মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্ট ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযানের বিরুদ্ধেই আগে থেকেই বিক্ষোভ হচ্ছিল। চলতি মাসের শুরুতে আরেকটি ঘটনায় এক নারী নিহত হওয়ার পর শহরে প্রতিদিনই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলেছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আলাদা এক ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এই ঘটনাকে অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সহিংস অভিযানের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ নিজেরাই করবে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে গুলি চালান। বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি অস্ত্র বহন করছিলেন এবং এজেন্টদের নিরস্ত্র করার চেষ্টায় বাধা দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর ও মিনিয়াপোলিসের মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য ও অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এদিকে ঘটনার সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফেডারেল এজেন্টদের কর্মকাণ্ড ভিডিও করছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে একাধিক এজেন্ট শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। ওপেন সোর্স অনুসন্ধানকারী সংস্থা বেলিংক্যাটের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, প্রথম গুলির আগেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মাটিতে পড়ে থাকার সময়ও একাধিক গুলি ছোড়া হয়।

মিনিয়াপোলিস পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত হতে পারেন। মিনেসোটায় অনুমতিসাপেক্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে। পুলিশ বিভাগ জনগণ ও ফেডারেল বাহিনী—উভয় পক্ষকেই সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

ঘটনার পর শত শত মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়ে ফেডারেল এজেন্টদের ঘিরে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং ব্যবহার করা হলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে ফেডারেল বাহিনী এলাকা ছাড়লে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিক্ষোভকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সড়কে অবস্থান করেন।

গভর্নর ওয়ালজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার এবং শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত