বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো, বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির লক্ষ্যে আফগান ব্যবসায়ীদের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ওপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত ওষুধের শুল্ক ছাড়পত্র বন্ধের প্রস্তুতি নেওয়ায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মৌলভি আহমদউল্লাহ জাহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় দু’দিনের সফরে এসে বাংলাদেশের দুই বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও রেনাটা পিএলসি-র সঙ্গে বৈঠক করে। এ দুই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। বৈঠকে জানানো হয় আফগানিস্তানে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ সরবরাহ করা হবে, যা দেশটির স্বাস্থ্যখাতের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
চুক্তি অনুসারে, আফগান ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাংলাদেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের বাজারে ওষুধ সরবরাহ করবে। বৈঠকে আফগান উপমন্ত্রী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশটিতে ওষুধ উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করারও আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হচ্ছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
এ সময় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মহাপরিচালক ড. নাইমউল্লাহ আয়ুবি বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বাংলাদেশি উৎপাদনকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আফগান কর্তৃপক্ষ আগেই ঘোষণা দেয়, পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত ওষুধ ১৯ দিনের গ্রেস পিরিয়ড শেষে আর শুল্ক কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেবে না। এরপরই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেশটিতে ওষুধের অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করে।
