টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার জিও নিউজের একটি অনুষ্ঠানে রানা সানাউল্লাহ বলেন, “এই ইস্যুতে আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা উচিত। স্বল্পমেয়াদে কিছু আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত এলে পাকিস্তান ক্রিকেট আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে তার মতে, অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়ে নীতিগত অবস্থান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর পরপরই আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পাকিস্তানের অবস্থান ঘোষণা করা হবে।
রানা সানাউল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক দূরত্ব কমতে পারে। ১৯৭১ সালের পর সম্পর্কের যে টানাপোড়েন রয়েছে, তা কাটিয়ে দুই দেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমর্থন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের প্রতি নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রের প্রতি।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্বেগের বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি দ্বৈত নীতি অনুসরণ করেছে। তার ভাষায়, “একটি দেশের জন্য এক রকম সিদ্ধান্ত আর অন্য দেশের জন্য ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।”
