ছাত্রদল নেতা নাছির

ঢাবিকে 'বেশ্যাখানা' বলা জামায়াতের রাজনীতির দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান যে 'মাদকের আড্ডাখানা' ও 'বেশ্যাখানা' বলার মতো কুরুচিপূর্ণ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন- তা কেবল ডাকসুকে অপমান নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং উচ্চশিক্ষার ইতিহাসকেই চরমভাবে অপমানিত করেছে।

আজ সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ডাকসু এদেশের গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ডাকসুর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা। সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন কুরূচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ 'নিমগাছে কখনো আম ফলে না'। যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী-বিদ্বেষ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ইতিহাস লেগে আছে, তাদের মুখ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই পাকিস্তানি হায়েনাদের সঙ্গে মিলে এদেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর সহযোগী হয়েছিল। জনসভায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য মূলত তাদের সেই পুরোনো অন্ধকার ও নারী-বিদ্বেষী মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, এই জামায়াত যদি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে পারে, তবে তারা এদেশের নারীদের জন্য এক ভয়াবহ ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার অর্থই হবে—নারীদের ঘরে বন্দি করা, কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদযাত্রা থামিয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি পদে পদে তাদের অবমাননা করা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের ভূমিকা। যারা তুচ্ছ ঘটনায় লম্বা বিবৃতি দেয়, তারা আজ রহস্যজনকভাবে নীরব! জামাত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পরেও অফিশিয়ালি কোনও প্রতিবাদ না জানানোই প্রমাণ করে যে, শিবির পরিচালিত এই বর্তমান ডাকসু এখন জামায়াতের ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসুর জন্য এটি চরম লজ্জার।

তিনি এই ন্যাক্কারজনক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিয়ে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দল হিসেবে জামায়াতকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত