৯ পয়েন্টে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা নুরুল হক নুরের

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। 

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি নিজ পিতৃস্থল গলাচিপা-দশমিনার মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে ৯ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, দ্বীপবেষ্টিত ও অনুন্নত এই জনপদের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সংকটে জর্জরিত মানুষের হাহাকার তাকে স্কুলজীবন থেকেই ভাবিয়েছে। তাদের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা শেষে চাকরির পরিবর্তে রাজনীতিতে আসেন। তিনি এলাকায় গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তন, উন্নয়ন ও শান্তি-সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলকে নিয়ে কাজ করতে চান।

তার ইশতেহারের ৯টি দফা হল:

১. সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাস্তা-ঘাট পাকাকরণ, সেতু নির্মাণ, ফেরি চালু করা। নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় সুলভ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।

২. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় আধুনিক ভবন, পাঠকক্ষ, খেলার মাঠ, ল্যাব ও লাইব্রেরি স্থাপন। দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি চালু করে টাকার অভাবে কাউকে পড়াশোনা বন্ধ না করতে উদ্যোগ নেওয়া।

৩. বেসরকারি পর্যায়ে ২টি হাসপাতাল স্থাপন করে নামমাত্র মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা দেওয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন ও দক্ষ জনবল নিশ্চিতকরণ। দুর্গম দ্বীপে নৌ-এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা।

৪. গলাচিপায় নতুন থানা ও দশমিনার দুর্গম এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন।

৫. গলাচিপা ও দশমিনায় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে পূর্ণ জনবল নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যবস্থা করা। থানা ও আদালতকে হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব করা। সালিশবাণিজ্য বন্ধ করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।

৬. হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা। হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

৭. কৃষিভিত্তিক এই এলাকায় শিল্পকারখানা ও সরকারি হিমাগার স্থাপন। শতভাগ কর্মসংস্থান তৈরি করে কর্মসন্ধানে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া রোধ। ইকো ট্যুরিজম জোন গড়ে তোলা ও বৃক্ষরোপণ বাড়ানো।

৮. মাদক ও বেকারত্ব দূর করতে যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আইসিটি পার্ক, ইনকিউবেশন সেন্টার ও ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি। প্রতি বাড়িতে হস্ত ও কুটিরশিল্পের মাধ্যমে নারী কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

৯. চর, খাল ও স্লুইসগেট দখলমুক্ত করে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা। সরকারি খাস জমি ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে স্বচ্ছভাবে বণ্টন। তরমুজ চাষি ও কৃষকদের শস্য বাজারজাতকরণে কোনো অতিরিক্ত খরচ না নেওয়া। মধ্যস্বত্বভোগ বন্ধ ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

ইশতেহারের শেষে নুরুল হক নুর বলেন, এই জনপদ হবে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রোল মডেল। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু ও উগ্রবাদের কোনো স্থান থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক উন্নত জনপদ গড়ে তোলা হবে। তিনি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত