যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যেই একটি চুক্তি হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যে এই চুক্তি করেছি। ভারত এখন ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে যাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন,' যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য পুনর্গঠন করতে চায় এবং এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চীনকেও ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।'
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে খুবই সীমিত পরিমাণ তেল আমদানি করছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে ইরান ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির দিকে ঝুঁকুক। ওয়াশিংটনের দাবি, এতে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নে ব্যবহৃত তেল আয়ের পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে।
ভেনেজুয়েলার তেল কেনার ইস্যুতে চলতি বছরের মার্চে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প—এ তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির বিষয়ে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স অপহরণ করেছে বলে দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে দাবি করেন ট্রাম্প।
বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে ১৮টি ট্যাংকারে করে তেল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপির তেল পরিশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হচ্ছে-যা গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
মাদুরো অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলা থেকে চীনে দৈনিক প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো। তবে চলতি জানুয়ারিতে সেই রপ্তানি শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাদুরো অপহরণের পর ভেনেজুয়েলার কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে এটিই ছিল মোদির প্রথম যোগাযোগ। ফোনালাপে উভয় নেতা জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
