দেশের স্পোর্টস নিয়ে বিএনপির অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর শহীদ ফজলুর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে একথা জানান তিনি।
কৃতি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে আমীর খসরু বলেন, একটা দেশ যখন খেলায় ভালো করে তখন সে দেশকে পুরো বিশ্ব চিনে। তামিমদের মাধ্যমে আমাদের দেশ প্রচুর পরিচিতি লাভ করেছে। সুতরাং খেলাধুলা হলো দেশের সফট পাওয়ার। তাই স্পোর্টসকে নিয়ে আগামী দিনে আমাদের অনেক বড় চিন্তা আছে। নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকারে যেতে পারলে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে স্পোর্টস ঘিরে।
তিনি বলেন, আমরা আজকে বসেছি ক্রীড়াঙ্গণের সমস্যাগুলো আপনাদের কাছ থেকে শোনার জন্য। কেন শুনতে চাচ্ছি, কারণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব বলেছেন উই হ্যাভ আ প্ল্যান। আমরা স্পোর্টসের জন্য একটা বড় প্ল্যান করেছি। কী কী করেছি তার একটা আভাষও দিয়েছি। আপনাদের কাছ থেকে শোনার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের প্ল্যানের মধ্যে কোনও ঘাটতি আছে কিনা সেটা দেখার জন্য। আপনাদের কথা না শুনলে আমাদের পরিকল্পনাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারবো না। এজন্য আজকে আপনাদের কথা শুনতে এসেছি। আপনাদের কথা শুনে মনে হয়েছে, স্পোর্টস নিয়ে অধিকাংশই আমরা পরিকল্পনার মধ্যে এনেছি।
বিএনপির মতো কোনও রাজনীতিক দল ক্রীড়া নিয়ে তাদের রাজনীতিক পরিকল্পনার মধ্যে এত বড় করে রাখেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা স্পোর্টসকে সামনে নিয়ে এসেছি, উপরে নিয়ে এসেছি, ফ্রন্ট অ্যান্ড সেন্টারে নিয়ে আসছি। স্পোর্টসকে আমরা আপনাদের ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের উন্নয়ন হিসাবে দেখছি। সুতরাং সামস্টিক সমাধানের মাধ্যমে স্পোর্টসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের কথা শুনে যা পেয়েছি সেটা হলো- আরও যেখানে যেখানে পরিপূর্ণতা দেওয়া দরকার সেখানে দেওয়া হবে।
তামিম ইকবালের এক বছর পরে আলোচনায় বসার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, তামিমের সাথে আমি একমত। আগামী এক বছর পর আবার আমরা বসব। কি করতে পেরেছি কি করতে পারিনি সেটা তুলে ধরার জন্য। কারণ বিএনপি রাজনীতিতে জবাবদিহিতাকে সামনে আনতে চায়। আমি যাতে আপনাদের সাথে জবাবদিহি করতে পারি সেজন্য আপনাদের সামনে বসব। আমাদের সমস্যা হচ্ছে রাজনীতিবিদরা জবাবদিহি করতে চান না। আগামী বছর দেখা হবে, এক বছরে আমরা স্পোর্টসকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছি, কতটুকু পারি নাই। না পারলে কেন পারি নাই, এটার সমাধান কী? আবার আপনাদের সামনে আলোচনার মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্পোর্টসকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি সে উদ্দেশ্য সফল হবে বলে আমি আশা করি।
স্পোর্টস কেন্দ্রীক অর্থনীতির ধারণা দিয়ে সাবেক মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলায় যতবেশি ছেলেমেয়েরা যাবে, যতবেশি ইন্টারেস্ট বাড়বে, সমাজ ও দেশের মধ্যে ততবেশি স্পোর্টস এক্টিভিটি বাড়বে। ততবেশি ট্রানজেকশন হবে। কিভাবে সেটা? যখন কোনও খেলা হয়, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি কিংবা ভলিবল। তখন প্রচুর দর্শক টিকেট কেটে খেলা দেখতে যায়। এই যে টিকেট কেটে খেলা দেখে- এটাই হলো অর্থনীতি। সুতরাং আমরা স্পোর্টসকে যতবেশি জনপ্রিয় করতে পারব, যতবেশি ম্পোর্টস ম্যান বাড়বে, যত বেশি এক্টিভিটি বাড়বে, সুযোগ সুবিধা বাড়বে; তার মাধ্যমে স্পোর্টস ইকোনমি গড়ে উঠবে। স্পোর্টস ইকোনমি যখন বাড়বে তখন এমপ্লয়মেন্ট বাড়বে। কারণ স্পোর্টস এক্টিভিটির মাধ্যমে প্রচুর চাকরি হয়।
চট্টগ্রামে মাঠের সংকট নিয়ে আমীর খসরু বলেন, মাঠের অভাবে চট্টগ্রামে স্পোর্টস চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমি চট্টগ্রামের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে এরই মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ৩০টি ওয়ার্ডে মাঠ হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন একাডেমির প্রশিক্ষক, জাতীয় খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
