সরকারি নির্দেশ মানলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না: সাবেক আইসিসি প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

“হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা যাব। কিন্তু এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়, স্যার। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই করতে পারি না। আমাদের সরকার এবং আমাদের বোর্ড চেয়ারম্যান আমাদের যা নির্দেশ দেবেন, সেটাই আমাদের মানতে হবে। সেই নির্দেশ পেলেই আমরা যাব এবং সেটাই করব।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে, তবে ভারতের সঙ্গে ম্যাচে অংশ নেবেনা- পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গতকাল দেশটির টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক সালমান আগা ঐ কথা বলেন। 

আইসিসি এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, জাতীয় নীতিনির্ধারণে সরকারের ভূমিকা থাকতেই পারে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। 

তবে সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন, সরকারের নির্দেশ মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যৌক্তিক নয়।

ভারতের স্পোর্টস্টারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মানি বলেন, “সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে না। একই কারণ দেখিয়ে ভারত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড থাকতে পারে না। দুঃখজনকভাবে আইসিসি সমস্যার সমাধান না করে শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে যেকোনো দেশ চাইলে তাদের সরকারকে সামনে এনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশেষ করে যখন পিসিবির চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।”

এর আগেও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পয়েন্ট হারাতে হয়েছিল।

এ ছাড়া ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থানের কারণে ইংল্যান্ড হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেনি। একই টুর্নামেন্টে নিরাপত্তার অজুহাতে কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড।

আইসিসি জানিয়েছে, তারা আশা করছে পিসিবি এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজবে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য—টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত