মৌলভীবাজার ৪ আসন

চা বলয় যেদিকে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই!

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বরাবরই ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করেন চা শ্রমিকরা। বিশাল এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে যাবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হবে, এমন সমীকরণ মাথায় রেখেই প্রার্থীরা এখন চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন চা বাগান এলাকায়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর দেশের এই চায়ের জনপদ। এ আসনে মূলত চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘুদের ভোট অনেকটাই মূল্যবান বলা চলে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটারের একটি বিশাল অংশ চা শ্রমিক। এখানকার ফিনলে, ডানকান ব্রাদার্স, বাংলাদেশ টি বোর্ড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি), ব্যক্তি মালিকানাধীনসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাগানে প্রায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য ভোটার রয়েছেন। এ আসনের ভোটারের একটা বড় অংশ চা-শ্রমিক। ফলে এ আসনের প্রার্থীদের প্রচারের মূল কেন্দ্রে থাকে চা-বাগান। এবারও ব্যতিক্রম নেই। প্রার্থীরা চা-বাগান চষে বেড়াচ্ছেন। তারা চা-শ্রমিকদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই ভোটাররা সাধারণত দলবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে থাকেন, যার ফলে প্রার্থীদের জয় পরাজয়ে তাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণ পথসভার চেয়ে বাগানভিত্তিক ‘উঠান বৈঠক’ ও শ্রমিক সমাবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি: বর্তমান বাজার দরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি পুননির্ধারণের আশ্বাস। ভূমির অধিকার: দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’ নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: বাগান এলাকায় উন্নত স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলছেন প্রার্থীরা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, আমাদের চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে মজুরি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত অন্যতম। প্রার্থীরা প্রতিবারই ভোটের আগে আসেন, অনেক কথা বলেন। তবে এবার আমরা সচেতন। যে আমাদের আবাসন ও রেশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, তাকেই আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই।

কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, আমাদের ভোটে যেহেতু জয়-পরাজয়, তাই এবার আমরা হিসাব করেই ভোট দেব। তবে চা বাগানের ভোটাররা হ্যাঁ বা না ভোটের বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকেও প্রচারণা নেই।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ১১ দলীয় জোটবদ্ধ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধুসহ অন্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শ্রমিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়েও এখানে সরাসরি যোগাযোগ এবং লিফলেট বিলি বেশি কার্যকর হচ্ছে। অনেকে আবার শ্রমিকদের ভাষায় (দেশওয়ালী বা চা জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক ভাষা) কথা বলে তাদের আপন হওয়ার চেষ্টা করছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে মাইকিং না করার সতর্কও করা হয়েছে প্রার্থীদের।

যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), বিএনপির বিদ্রোহী (বহিস্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান (মই) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত