অবহেলিত মানুষের কথা বলতেই রাজনীতিতে আছি: প্রীতম দাশ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

চা বাগানের কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটছেন এক প্রার্থী। চারপাশে শ্রমিকদের ব্যস্ততা, কারও হাতে কাজের ঝুড়ি, কারও চোখে ক্লান্তি। মাঝেই থেমে কথা বলছেন তাদের সঙ্গে—মজুরি, বাসস্থান, ভূমির অধিকার নিয়ে।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী প্রচারণার চিত্রটা অনেকটা এমনই।

প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় দিনভর গণসংযোগ করছেন প্রীতম দাশ। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট, লাখাই ও বিলাসছড়া চা বাগান এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই চা বাগানে ঘুরে শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। সঙ্গে ছিলেন দলের নেতাকর্মীরা।

চা শ্রমিকদের জীবনের কথা বলতে গিয়ে প্রীতম দাশ বলেন, এই জনগোষ্ঠী যুগের পর যুগ অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। ‘আমি নির্বাচিত হলে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তার মতে, ভূমি নিরাপত্তা ছাড়া শ্রমিকদের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

শুধু শ্রমিক নয়, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও তার ভাবনার বড় জায়গা দখল করে আছে। প্রীতম দাশ বলেন, ‘এই অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের পরিচয়ের অংশ। এগুলো রক্ষা করা না গেলে উন্নয়নও টেকসই হবে না।’ তিনি এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পর্যটন সম্ভাবনার দিকেও নজর রয়েছে তার। চা বাগান, পাহাড় ও হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিটি ট্যুরিজম ও ইকো ট্যুরিজমের প্রসারের কথা বলেন প্রীতম। এতে স্থানীয় মানুষ সরাসরি লাভবান হবে বলেই তার বিশ্বাস। একই সঙ্গে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি।

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, হাওরের পানি ও পরিবেশ আজ মারাত্মক দূষণের শিকার। অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে হাওরের স্বাভাবিক রূপ নষ্ট হচ্ছে। হাওর রক্ষা করা মানে শুধু প্রকৃতি রক্ষা নয়, হাজারও মানুষের জীবিকা রক্ষা করা।

কৃষি খাতে প্রীতম দাশের পরিকল্পনায় রয়েছে বিষমুক্ত কৃষির প্রসার, ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তার মতে, কৃষক বাঁচলে অঞ্চল বাঁচবে।

যুবসমাজকে নিয়েও রয়েছে আলাদা ভাবনা। বেকারত্ব ও হতাশা কাটাতে প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, চাকরির তথ্য এবং উদ্যোক্তা সহায়তা এক ছাদের নিচে দিতে ‘ওয়ান স্টপ ইউথ সেন্টার’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে একটি করে ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরবস্থার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে। শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ এলাকায় যানজট নিরসনে নতুন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, ঢাকা–সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং শমসেরনগর রেলস্টেশনে সব ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা শ্রীমঙ্গল পৌরসভা বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

নিজের রাজনীতির দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রীতম দাশ বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি অঢেল সম্পদের মালিক নই। আমি এই এলাকারই একজন মানুষ। মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি।’ রাজনীতি মানুষের অধিকার, পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বলেই জানান তিনি।

প্রীতম দাশের ভাষায়, মৌলভীবাজার–৪ আসনকে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করাই তার স্বপ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত