বাংলাদেশে আর পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলবে না: জামায়াত আমির

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশে (বাংলাদেশ) রাজার ছেলে রাজা হবে, বংশানুক্রমিক পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর চলবে না। রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনীতি হবে দেশপ্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশে কোন আধিপত্যবাদী রাজনীতি আর চলবে না, আমাদের প্রতিবেশীসহ সারা দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর কোনো সম্পর্ক আমরা কোনো দেশের সাথে চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নারী-পুরুষসহ দেশে বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, সাঁওতাল ভাই-বোনেরা আছে, সবাইকে নিয়েই আমাদের বাংলাদেশ। আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, জনগণের ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসা সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ আমাদেরকে দেন ইনশাআল্লাহ কাউকে আর চাঁদাবাজি করতে দেব না। ইনশাআল্লাহ এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বোনেরা-মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে, সব জায়গায় নিরাপদ থাকবেন। মর্যাদার সঙ্গে শিশু জন্ম নেওয়ার পরে তার পুষ্টি, স্বাস্থ্যের পরিচর্যার দায়িত্ব সরকারের। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা খরচে শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। আর সারা জিন্দেগী জাতিকে যারা উজাড় করে দিয়ে একটা বয়সে পৌঁছে যাবেন, তাদেরও চিকিৎসার দায়িত্ব নিবে সরকার। প্রত্যেকটি বিভাগীয় নগরী ও প্রত্যেকটি জেলায় ইনশাআল্লাহ আমরা মেডিকেল কলেজ কায়েম করব এবং বিশেষায়িত হাসপাতালও গড়ে তুলব।

নারীদের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সচরাচর নারীদের সম্মানে কাজ করে আসছে। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশকে নারীদের জন্য বসবাসের উপযোগী করে রাখব ইনশাল্লাহ। এই দেশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অথবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নয়, এই দেশ আমাদের সকলের, সকল শ্রেণীর মানুষের, কৃষক, শ্রমিক, জনতার। আপনাদের মহামূল্যবান ভোট আগামী ১২ তারিখে দাঁড়িপাল্লায় প্রয়োগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করুন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাদের অতীতেও খাসলত খারাপ ছিল, এখনো যারা লোভ সামলাইতে পারেনি, সেই বিড়ালের হাতে গোস্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিবেন? এরা রাষ্ট্রের জনগণের মান এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা এখনই দিচ্ছে, না তখনও দিবে না। আফসোস তারাও মজলুম ছিলেন, কেন যে এখন বদলে গেলেন, বুঝতে পারলাম না। বিভিন্ন জায়গার দখলদারিত্ব নিতে গিয়ে নিজেদেরই ২৩৪ জন শেষ। এখন আমাদেরকে খুন করা শুরু হয়েছে, আমাদেরকে এখন গালি দেওয়া শুরু হয়েছে, যাদের মানুষ মারা গেল, যারা চাঁদাবাজি করে না, যারা কাউকে কষ্ট দেয় না, যারা দুর্নীতি করে না, যারা মামলা বাণিজ্য করে না, যারা বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষকে হয়রান করে না, তাদেরকে এখন বলা হচ্ছে জালেম!

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা এখন থেকে দোয়া করতে থাকেন, কোনো কালো চিল আসমান থেকে এসে ছুঁ মেরে যেন আমাদের স্বপ্নকে এলোমেলো করে দিতে না পারে। এখন থেকে পাহারা বসাবেন, কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর, ভোট ইঞ্জিনিয়ার কাউকে এবার কোন ছাড় নেই। সিনা মজবুত করে হাত শক্ত করে আমাদেরকে দাঁড়ায় যেতে হবে ইনশাল্লাহ। আমরা ইনশআল্লাহ পারব, ইনশাআল্লাহ আমাদেরকে পারতে হবে, না হয় বাংলাদেশ হেরে যাবে, সেই সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে আপনারা পাহারা বসাবেন ইনশাআল্লাহ। সারা বাংলাদেশের পক্ষে এখন জোয়ার শুরু হয়েছে, আল্লাহ তা’লা এই জোয়ারটাকে যেন সংসদ ভবনে নিয়ে পৌঁছায় দেন এবং সংসদ ভবনে যারা যাবেন তারা যেন কান্ড জ্ঞানহীন দায়িত্ব জ্ঞানহীন হয়ে না পড়েন। বরঞ্চ আল্লাহকে ভয় করে মানুষের প্রতি দায়যুক্ত থেকে তারা যেন কাজ করতে পারেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমীর ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

রাজশাহীর মাদ্রাসামাঠের জনসভার আগে জামায়াতের আমীর জেলার গোদাগাড়ীতে স্থানীয় জামায়াতের জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত