ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ওমানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহ দেখালেও আলোচনার পরিধি নিয়ে স্পষ্ট বিভেদ রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন চায় আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান সৎ মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে, তবে অতীতের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি অবশ্যই মানতে হবে এবং পারস্পরিক সম্মান ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যুক্ত হওয়ার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই হামলার পর ইরান দাবি করে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
এদিকে ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ায় উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। তেহরানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প সমঝোতায় আগ্রহী হলেও কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো সামরিক হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে সীমিত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান, নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার আলোচনার বিষয় নয় বলে আবারও জোর দিয়েছে ইরান।
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব দুর্বল হয়েছে এবং সিরিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। এতে করে আগে থেকেই নড়বড়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও চাপের মুখে পড়েছে।
