বাংলাদেশের বাজে দিনটা ফাইনালেই এলো

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

লিগ পর্বের সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। ভুটানকে ১২-০, ভারতকে ২-০ ও নেপালকে ৪-০ গোলে হারায় পিটার বাটলারের শীষ্যরা। অথচ সেই বাংলাদেশই ফাইনালে নিজেদের ছায়া হয়ে থাকলো। ভীষণ এলোমেলো এক বাংলাদেশকে বাগে পেয়ে ভারত নিলো প্রতিশোধ। ৪-০ গোলের বাংলাদেশকে হারিয়ে তারা জিতে নিল সাফ ওমেন্স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে তুখোড় ফুটবলে নজড় কারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে হলো শিরোপা হারানোর পরিণতি। নেপালের পোখারায় বড় এক ধাক্কাই পেতে হলো বাংলাদেশকে।

অথচ ম্যাচের আগ পর্যন্ত খুব মনে হচ্ছিল সহজেই ফাইনালটা জিতে নেবে বাংলাদেশের মেয়েরা। উত্তুঙ্গু আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই তারা মাঠে এসেছিল। তবে দিনটা যে তাদের নয়, সেটা বোঝা গেছে শুরু থেকেই। ভারত এগিয়ে ছিল সবখানেই। বল নিয়ন্ত্রণ, নিঁখুত পাসিংয়ে পরিকল্পিত আক্রমণ আবার সময় মতো নেমে এসে নিরেট রক্ষণ- সব পজিশনেই ভারত এগিয়ে থেকে জিতেছে ম্যাচটা। লিগ পর্বে গোল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল তাদের। সেটা এমনভাবে দূর হবে, অন্তত বাংলাদেশ সেটা কল্পনা করেনি। যে দলটি আগের তিন ম্যাচে ১৮ গোলের বিপরীতে এক গোলও হজম করেনি, তারা ভারতের গোল দরজাই হারিয়ে ফেলে পুরো ম্যাচ। সেভাবে ভারতকে পরীক্ষাও নিতে পারেননি আলপি আক্তার, তৃষ্ণারানীরা। তাই ফাইনাল মঞ্চে বাংলাদেশকে পেতে হয়েছে বড় হারের লজ্জা। যেটা গত কয়েক বছরে অন্তত নারী ফুটবলে পেতে হয়নি বাংলাদেশকে।

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের শিরোপা জয়ী ভারত

দু'বছর আগে এই ভারতের সঙ্গেই এই টুর্নামেন্টের নাটকীতায় ঠাসা ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে সেবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয় দু'দল। এবার বাংলাদেশ ফাইনালে ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। তবে মূল মঞ্চে ভারত আরেকবার নিজেদের সেরা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশকে এলোমেলো করে দিয়ে। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়ে যায় ভারত। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন পার্ল ফার্নান্দেজ। তবে গোলমুখের সামনে থেকে ঠিকঠাক বলে পায়ে সংযোগ ঘটাতে পারেননি আলভা দেবি সেনজাম। তারপরও হাল ছাড়েনি ভারত। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। অবশেষে তার সুফল পায় ৪২ মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন ফার্নান্দেজ। বাংলাদেশের আফরিন আর প্রীতির বাধার মুখে মাটিতে পড়ে যান ভারতীয় ফরোয়ার্ড। দৌড়ে এসে বক্সে ক্রস ফেলেন আলভা দেবি। বল পেয়ে প্রীতিকা বর্মন বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডার অর্পিতা এবং জয়নব বিবি রিতাকে বোকা বানিয়ে বল গোলমুখের ঠেলে দেন। সেখান থেকে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন ভারত অধিনায়ক ঝুলন।

গোল হজমের পরপরই দুটি পরিবর্তন করেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। মামনি চাকমাকে তুলে নিয়ে নামান শান্তি মার্ডিকে আর জয়নব বিবি রিতার জায়গায় আসেন প্রতিমা মান্ডা। বিরতির পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়েছিল বাংলাদেশ। ৫১ মিনিটে দলকে ম্যাচে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তৃষ্ণারানী। শান্তির দারুণ পাসে বল নিয়ে আক্রমণে উঠে ভারত কিপার মুন্নিকে একা পেয়ে যান বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। তবে ঠিকঠাক পোস্টে বল রাখতে পারেননি তিনি।

৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরও পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। লং বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশ কিপার ইয়ারজান বেগম। তবে বল আয়ত্বেনিতে পারেননি। আলভা দেবি বলে শট নেওয়ার আগ মুহূর্তে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ভারত। সফল স্পট কিকে ব্যবধান বাড়ান এলিজাবেথ লাকড়া। সাত মিনিট পর ইয়ারজানের শিশুতোষ ভুলে ৩-০ করে ভারত। সতীর্থের ব্যাক পাসে শট নিতে গিয়ে দেরী করেন ইয়ারজান। যখন শট নেন তার সামনে চলে এসেছিলেন পার্ল ফার্নান্দেজ। তার শরীরে বল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তড়িৎ সে বল ফাঁকা পোস্টে জমা করেন ভারত ফরোয়ার্ড। ব্যবধান কমানো দূরে থাক ছন্নছাড়া বাংলাদেশকে আবারও হতাশ হতে হয় ৮৩ মিনিটে। দারুণ ফিনিশে ভারতকে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসান বদলী আম্বিতা রঘুরমন।

আগের তিন ম্যাচে সাত গোল করেছিলেন আলপি আক্তার। ছিল দুটি হ্যাটট্রিক। অথচ এই ম্যাচে তাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তৃষ্ণা, মুনকিরাও ছায়া হয়ে থেকেছেন। তাই একটা বাজে ম্যাচের তেতো অভিজ্ঞতা দেশে ফিরতে হবে বাংলাদেশকে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত