মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নূরে আলম হামিদী তার নির্বাচনী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর একাধিক হামলা, হুমকি এবং প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদের প্রিন্সিপাল ও ইমামদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আজ সোমবার সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নূরে আলম হামিদী।
তিনি জানান, ভৈরববাজারে অনুষ্ঠিত তার প্রথম নির্বাচনী পথসভায় তার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়। এ সময় নাকের ওপর ঘুষি মারলে তিনি রক্তাক্ত হন। এ ছাড়া তিনদিন আগে সিন্দুরখান রোডে তার গাড়িবহরে হামলা করা হয়। কমলগঞ্জের ইসলামপুর ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নির্বাচনী অফিস বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নূরে আলম হামিদী আরও বলেন, রবিবার রামেশ্বর এলাকায় তার গাড়ি আটকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রচার কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। একই ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয়েছে শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোড এলাকাতেও। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার কর্মী বাহিনীকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম ও দায়িত্বশীলদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি জানান, এসব বিষয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রশাসন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রার্থী ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ বিতরণে জড়িত থাকার তথ্য তারা পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে নূরে আলম হামিদী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন এবং সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। মৌলভীবাজার–৪ আসনের বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
ইশতেহারে আধুনিক ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, নতুন সড়ক নির্মাণ, সেতু ও কালভার্ট সংস্কার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতির অঙ্গীকার করা হয়।
শিক্ষাখাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যখাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকি প্রদান, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
ইশতেহারে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কমলগঞ্জে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা নিলাম কেন্দ্র আধুনিকায়ন, শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
