ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে টাইব্রেকার নাটক, ইতিহাস গড়লো ফ্যাব্রেগাসের কোমো

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

ইতালিয়ান ফুটবলে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি উপহার দিল সেস ফাব্রেগাসের কোমো ১৯০৭। ডিয়েগো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ও ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন নাপোলিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৪০ বছর পর কোপা ইতালিয়ার সেমিফাইনালে উঠেছে লম্বার্দির ক্লাবটি।

নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র থাকায় ফল নির্ধারণ গড়ায় টাইব্রেকারে। টানা ১৬টি শট পর্যন্ত গড়ানো রুদ্ধশ্বাস এই শুটআউটে শেষ পর্যন্ত ৭-৬ ব্যবধানে জয় পায় কোমো। নাপোলির মিডফিল্ডার স্তানিস্লাভ লোবোটকার নেওয়া ‘সাডেন ডেথ’ শটটি ঠেকিয়ে দেন কোমোর গোলরক্ষক জ্যাঁ বুতেজ। তাঁর সেই সেভের পরই মাঠে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কোমোর খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

নিকো পাস, সার্জি রোবের্তোদের দল এখন সেমিফাইনালে খেলবে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে, দুই লেগের লড়াইয়ে।

কোমোর গোলরক্ষক জঁ বুতেজের উদযাপন

ফাব্রেগাস বনাম কন্তে


টাচলাইনে এটি ছিল ফাব্রেগাসের জন্যও বিশেষ এক রাত। চেলসিতে তাঁর সাবেক কোচ ও মেন্টর আন্তোনিও কন্তের বিপক্ষে কৌশলগত লড়াইয়ে জয়ী হন ফাব্রেগাস। কন্তের বিপক্ষে তিন দেখায় এটি তাঁর দ্বিতীয় জয়।

ম্যাচজুড়ে কোমোর খেলার মধ্যে ছিল পরিপক্ব কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্স। ৩৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কোমোকে এগিয়ে দেন মার্টিন বাতুরিনা। ভিএআর পর্যালোচনার পর নাপোলির ডিফেন্ডার অলিভেরা বক্সের ভেতরে স্মোলচিচকে ফাউল করায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। পেনাল্টি বিশেষজ্ঞ গোলরক্ষক মিলিনকোভিচ-সাভিচের বিপক্ষে নিখুঁত শটে গোল করেন বাতুরিনা।

বিরতির পরপরই ম্যাচে ফিরে আসে নাপোলি। ৪৬তম মিনিটে আন্তোনিও ভারগারা সমতাসূচক গোল করেন। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর তৃতীয় গোল—এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও সিরি আ-তেও গোল করেছিলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে নাপোলি জয়ের খুব কাছাকাছিও গিয়েছিল। আমির রহমানির হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন কোমোর এক ডিফেন্ডার। তবে দুই দলই ক্লান্ত হয়ে পড়ায় ম্যাচ শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের দিকেই গড়ায়।

নাটকীয় টাইব্রেকার

টাইব্রেকারে শুরু থেকেই নাটকীয়তা। নাপোলির হয়ে রোমেলু লুকাকু শট নিতে ব্যর্থ হন। আবার কোমোর হয়ে ম্যাক্সিমো পেরোনেও একটি শট মিস করেন।
এরপর নাটক আরও বাড়ে। নাপোলির গোলরক্ষক মিলিনকোভিচ-সাভিচ গুরুত্বপূর্ণ একটি সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। পরে ষষ্ঠ শুটার হিসেবে নিজেই স্পটকিকে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর শট ক্রসবারে লেগে বুতেজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে পড়ে—গোল হলেও মুহূর্তটি ছিল অদ্ভুত ও নাটকীয়।
শেষ পর্যন্ত ১৬তম পেনাল্টিতে এসে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়। লোবোটকার শট ঠেকিয়ে দেন বুতেজ। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত