সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু, উৎসবের আমেজ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্র সংস্কার গণভোটের ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ দেড় দশকের বঞ্চনা শেষে আজ নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে ১২ কোটিরও বেশি মানুষ। রাজধানীর প্রতিটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ভোটারদের দীর্ঘ সারি জানান দিচ্ছে—এ এক অন্যরকম জাগরণের দিন।

সকালে রাজধানীর বাসাবো বাগানবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক খোলার আগেই সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন শত শত ভোটার। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতি নজর কাড়ার মতো।

ভোটারদের দাবি, উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে। তারা বলছেন অন্য যেকোনো বারের তুলনায় এবারের ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে হচ্ছে। 

মাদারটেক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত তিনবার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এজন্য এবার ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে ছুটে এসেছি। এখান থেকে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভোট দিতে পাঠাবো। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ২০০১- ২০০৮ সালের থেকেও এবার ভোটের পরিস্থিতি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ। 

এ সময় ফিরোজ মাহমুদ নামে এক তরুণ ভোটার বলেন, ভোটার হয়েছি কিন্তু গত দুইবার ভোটার অধিকার করার সুযোগ পায়নি। তাই এবার ভোর সকালেই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য চলে এসেছি। 

তবে সবার কথা একই সত্য ও ন্যায়ের পথে এবং জনগণের জন্য কাজ করবে এমন প্রার্থী বেছে নিবেন তারা।

এবারের ভোটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিটি ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। একটিতে তারা ২৯৯টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে নিজেদের সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন; আর অন্যটিতে 'রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট'-এ নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে 'নতুন বাংলাদেশের' ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে। ফ্যাসিবাদের ছায়া কাটিয়ে এক গণতান্ত্রিক ভোরের অপেক্ষায় এখন পুরো জাতি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। ঝুঁকি বিবেচনায় ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। নজিরবিহীনভাবে এবার মাঠে রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, যাদের দেওয়া হয়েছে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের টহল দলগুলো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশ ঘিরে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশই তরুণ প্রজন্ম। তাদের রায়ই গড়ে দেবে আগামীর সংসদ। অন্যদিকে, প্রবাস থেকে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধারা’ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি উপস্থিত থেকে এই ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করছেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ভোট আয়োজনে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত