কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপি বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছে। বড় ভোটের ব্যবধানে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতকে হারিয়েছে দলটি। অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় ভর করে জামায়াতের সকল সমীকরণকে পদদলিত করে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা কক্সবাজার-১ আসনের সালাহউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার ২ মাহফুজ উল্লাহ আলমগীর ফরিদ, কক্সবাজার ৩ লুৎফুর রহমান কাজল ও কক্সবাজার ৪ শাহাজাহান চৌধুরী জয়ের মালা গলায় পরেছেন।
সাড়ে ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে ৪ দর্থ বারের মতো জয়ী সালাহউদ্দিন
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৯৫ হাজার ৮৪০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মোট ১৭৭ কেন্দ্রের সবকটির প্রাথমিক ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি কোনও বিজয় উল্লাস করবে না। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আমরা কোনও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাই না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় ভুল হতে পারে, কিন্তু জনগণ মনে করেছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিএনপির হাতেই নিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন ও উচ্ছ্বাস থেকেই দলটি জনগণের প্রত্যাশা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পেয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দল।
কক্সবাজার-১ চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এ আসনে এবারের ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৫ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ জন।
চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এর আগে তিনি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সাড়ে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃতীয় বারের মতো জয় তুলে নিলেন আলমগীর ফরিদ
তৃতীয়বারের মতো কক্সবাজার-২ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। মোট ১২৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের প্রাপ্ত ভোট ৮৯ হাজার ৬৩৪। ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৬২৮, এ আসনে ভোট পড়েছে ৪৬ শতাংশ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতলেন কাজল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনের ১৮২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুরকে ২৮ হাজার ৪১৩ ভোটে পরাজিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ তথ্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হওয়া লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট, অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাতে কক্সবাজারের শহরের বাসভবনে কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, এই বিজয় জনগণের প্রতি উৎসর্গ করলাম। আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।
এর আগে এই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎসজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
৫ম বারের মতো সংসদ সদস্য শাহাজাহান
উখিয়া-টেকনাফ নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৪ আসন থেকে ৫ম বারের মতো বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রথম প্রহরে তিনি বলেছিলেন, জয় আল্লাহর হাতে। তেমনি আল্লাহ সহায় হয়েছেন তাই তিনি বিজয়ী হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার সমর্থকেরা।
জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। উখিয়া উপজেলায় ৫৪টি কেন্দ্রে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬০ হাজার ১১ ভোট, জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৩৯ ভোট।
অন্যদিকে টেকনাফে ৬১টি কেন্দ্রের ফলাফলে শাহজাহান চৌধুরী ৬২ হাজার ৩৩৭ ভোট ও নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৬১ হাজার ১০৪ ভোট।
পোস্টাল ব্যালেটে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৬৬ জন কিন্তু বৈধ ভোট প্রদান করেছেন ২ হাজার ৫৫০ জন আর বাতিল হয়েছে ৩৬ ভোট।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্বাক্ষরিত ফলাফল শিটের তথ্যানুযায়ী পোস্টাল ব্যালেটে নুর আহমদ আনোয়ারী ১ হাজার ৯৩৭টি এবং শাহজাহান চৌধুরী ৫৬১টি ভোট পেয়েছেন।
