আইএস’র ডজনখানেক আস্তানায় মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

গত বছর দুই মার্কিন সেনা এবং একজন দোভাষী নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ায় উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএস (আইএসআইএল)-এর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিরিয়ায় আইএস-এর ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ‘প্রিসিশন মিউনিশন’ বা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম গোলাবারুদ ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়।

সেন্টকম জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কটির অবশিষ্টাংশের ওপর নিরবচ্ছিন্ন সামরিক চাপ বজায় রাখতে’ এই সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক পালমিরা শহরের কাছে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালায় আইএস। ওই হামলায় সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান টরেস-টোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং আয়াদ মনসুর সাকাত নামে একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন।

মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘অপারেশন হকআই’-এর আওতায় গত দুই মাসে ৫০ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে হত্যা ও বন্দি করা হয়েছে। এছাড়া আইএস-এর প্রায় ১০০টি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

অন্য একটি পদক্ষেপে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার আটক আইএস সদস্যকে ইরাকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। বাগদাদের অনুরোধে এই বন্দিদের ইরাকে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আল-তানফ’ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন সেনারা এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে আসছিল।

২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস-এর আঞ্চলিক পরাজয়ের লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সাথে কাজ করেছিল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি তারা জানিয়েছে যে, এসডিএফ-এর সাথে তাদের জোটবদ্ধ হওয়ার মূল উদ্দেশ্যটি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

পুরো সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য দামেস্ক নির্ধারণ করেছে, আল-তানফ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত