চাঁদার টাকা না পেয়ে মাইক্রো চালকের ওপর হামলা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

নওগাঁর রাণীনগরে স্বপন মন্ডল (৪০) নামের এক মাইক্রো চালককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ- চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। অন্যদিকে চাঁদার বিষয়টি মনগড়া বলে দাবি করেন অভিযুক্ত আশিক হোসেন। তার দাবি রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতা জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বিলকৃষ্ণপুর বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় মারপিটের শিকার হন তিনি। আহত স্বপন গ্রামের মজিবর মন্ডলের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন বলে জানা যায়।

অপরদিকে অভিযুক্তরা সকলেই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী সমর্থক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেনের অনুসারী বলে জানা গেছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, স্বপন মন্ডল একসময় আওয়ামী লীগ করতেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অন্য প্রার্থীর হয়ে কাজ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী স্বপন মন্ডল ও তার পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার হেলালের ছেলে আশিক হোসেন ও আলামিন, মৃত গুলফর মন্ডলের ছেলে জিসান মন্ডল, মৃত হাতেম আলীর ছেলে জামাল এবং তারিকুল ও সালামসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজন স্বপন মন্ডলকে লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে।

তারা বলেন, স্বপন মন্ডল মোটরসাইকেলযোগে বাজার থেকে আসার সময় প্রথমে একজন লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এরপর আরও ২-৩ জন আঘাত করেন। পরে আরও একজন পায়ে আঘাত করলে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকেন। তাদের অতর্কিত হামলায় স্বপনের মাথা গভীর জখম হয়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত পান।

খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাথার ক্ষতস্থানে সেলাইসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে স্বপন সেখানে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী স্বপন মন্ডল ও তার পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচন শুরুর পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে হুমকিসহ চাঁদা দাবি করে আসছিলেন আশিক। তারা টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান করে খাবারের আয়োজন করবে। সেই জন্য নাকি দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা করে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আশিক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমাকে খুব জ্বালিয়েছে। তার জন্য এলাকায় থাকতে পারিনি। ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়েও সে বাজে কথা বলেছে। ঘটনার দিন আমাদের দেখেই সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পড়ে গিয়ে আঘাত পায়। তবে আমরা তাকে মেরেছি এবং তাকে মারার পর অনেকে খুশি হয়েছে। তাকে মূলত রাজনৈতিক পূর্ব শত্রুতার কারণেই মারা হয়েছে।

আরেক অভিযুক্ত জিসান মন্ডল মুঠোফোনে বলেন, আমরা তাকে মারিনি। তবে ছাত্রদল করার কথা জানালেও পদবি বলতে রাজি হননি তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার অনুসারী হোক আর না হোক, তারা বিএনপির এবং অন্যায় করেছে এটাই বড় ব্যাপার। এই জন্য তাদের খুব শাসন করা হয়েছে। আর তাছাড়া তারা ভুল স্বীকার করেছে। তবে স্বপন যদি ক্ষমা করে তাহলে তাদের ক্ষমা হবে। তাছাড়া হবে না। দলীয় ও আইনগত দুইভাবেই ব্যবস্থা হবে বলেও জানান তিনি।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল লতিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত